ভারতে জন্ম নেওয়া এবং নেদারল্যান্ডসের দুটি ভিন্ন পরিবারে দত্তক সন্তান হিসাবে বেড়ে ওঠা দুই নারীর গল্প যেন রূপালী পর্দার কোনও আবেগঘন চিত্রনাট্য।কয়েক দশক ধরে একে অপরের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে পথচলা দুই নারী সম্প্রতি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন, তারা আসলে একই বাবা-মায়ের সন্তান, আপন বোন।
বর্তমানে ৪৩ বছর বয়সী মীনা গেলটিঙ্ক এবং ৪৪ বছর বয়সী মিনাল টিসেন, উভয়েরই জন্ম ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে। জন্মের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ভারতের মুম্বাই শহরের দুটি আলাদা এতিমখানা থেকে দুটি ডাচ পরিবার তাদেরকে দত্তক নিয়ে পাড়ি জমায় নেদারল্যান্ডসে।
কৈশোরে নেদারল্যান্ডসে একটি দত্তক সংস্থার পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় মীনা ও মিনালের। প্রথম দেখাতেই চেহারার গঠন, হাসির ধরন আর অমায়িক অঙ্গভঙ্গির অদ্ভুত মিল দেখে চমকে যান দুজনে।
বিবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডাচ গ্রামে বেড়ে ওঠা মীনা সেই স্মৃতির কথা স্মরণ করে বলেন, “অনুষ্ঠানে বন্ধুরা আমাদের দুজনকে আয়নায় চেহারা মেলাতে বললে আমি অবাক হয়ে যাই। ওরে বাবা! তার নাক, হাসি একদম আমার মতো! সে রাতে খাবারের টেবিলে আমি কেবল তার দিকেই তাকিয়ে ছিলাম।”
পরদিন ফোন নম্বর ও ঠিকানা বিনিময়ের পর শুরু হয় গভীর সখ্য। রক্তসম্পর্কের কোনও অফিসিয়াল তথ্য না থাকলেও তাদের মানসিক টান ছিল প্রবল। একে অপরকে চিঠিতে লিখতেন ‘বোন’ বলে। পড়াশোনা, কৈশোরের প্রেম, গান আর ব্যাকস্ট্রিট বয়েজের অ্যালবাম নিয়ে আলোচনাতেই কেটে যায় বছর।
তবে জীবনের নিয়মে প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মিনাল ফ্রান্সে পাড়ি জমান আর মীনা প্রথম সন্তানের মা হওয়ার পর নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
এর আগে ২০০৩ সালে ১৯ বছর বয়সে জন্মদাত্রী মায়ের খোঁজে মুম্বাইয়ের অনাথ আশ্রমেও গিয়েছিলেন মীনা, তবে ধুলোবালি জমা পুরনো নথি ঘেঁটেও স্বজনদের সন্ধান মেলেনি।
২০১৭ সালে মীনা নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করালেও ডেটাবেইজে স্বজনের খোঁজ পাননি। মেমোরি ফুল হয়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে ফোন থেকে অ্যাপটি মুছেও ফেলেন তিনি।
অবশেষে চলতি বছরের এপ্রিলে নেদারল্যান্ডসে এসে মিনাল নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করালে উন্মোচিত হয় দীর্ঘদিনের গোপন সত্য। মে মাসে পরীক্ষার ফলে তিনি দেখেন, মীনার ডিএনএর সঙ্গে তার শতভাগ (একই বাবা-মায়ের সন্তান) মিল রয়েছে। ২০ মে ফেসবুকে মীনাকে এই সুসংবাদ পাঠান মিনাল।
উত্তেজনায় প্রায় ১০ বার ভুল পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাপে লগইন করার কথা জানিয়ে মীনা বলেন, “আমরা একে অপরকে সবসময় বোন বলে ডাকতাম। এই ডিএনএ টেস্ট যেন আমাদের ভেতরের সেই পুরোনো অনুভূতিরই সত্যতা দিল।”
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সত্য উন্মোচিত হওয়ার পর গত অগাস্টে তাদের আবেগঘন পুনর্মিলনী হয়। চোখের পানি, একে অপরকে জড়িয়ে ধরা আর আনন্দে কাটানো ওই মুহূর্তে তারা বোন হিসেবে তোলেন জীবনের প্রথম সেলফি।
দুই সন্তান নিয়ে ফ্রান্সে বাস করা মিনাল রয়টার্সকে বলেন, “আমরা বোন জানার আগেই বন্ধু ছিলাম। এতদিন আমরা জানতামই না যে আমরা আসলে আপন বোন।”
তিন সন্তানের জননী মীনা জানান, তাদের চালচলন, কথা বলার ভঙ্গি বা হেঁটে যাওয়ার ভঙ্গি দেখে এখন পরিবারের সবাই অবাক হন। বহু বছর পরস্পরের সুখ-দুঃখে পাশে না থাকার আফসোস ভুলতে এখন দুই বোন পরিকল্পনা করছেন একসঙ্গে ভারতে গিয়ে মুম্বাইয়ের সেই পুরনো রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর।
৪১তম কনভেনশনের হোস্ট বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকার কর্মকর্তারা ফোবানার পতাকা নিচ্ছেন। ছবি-বাংলা গেজেট।
বাংলা গেজেট নিউজ
ফ্লোরিডার ওরল্যোন্ডোতে জাকজমকের সাথে ৪-৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ফোবানার ৩দিনব্যাপী বাংলাদেশ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নয়া নির্বাহী কমিটির তালিকা পাওয়া গেছে। ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ৩ বছর মেয়াদের এই কমিটির কর্মকর্তারা হলেন : চেয়ারপারসন-আতিকুর রহমান, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি রহিম নিহাল, ভাইস চেয়ারপারস জিয়াউল হক জিয়া এবং আমিনুল জিলানি কলিন্স, যুগ্ম নির্বাহী সচিব মো. শাহাবউদ্দিন এবং ইমরান জনি আলম ও কোষাধ্যক্ষ-শাহেদুল ইসলাম অঞ্জন। উল্লেখ্য, এই কমিটির সার্বিক নেতৃত্বে সামনের বছর ফোবানার ৪১ তম সম্মেলন হবে নিউইয়র্কে এবং হোস্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকা’। ফোবানার ব্যানারও গত সম্মেলনের সমাপনী রজনীতে হস্তান্তর করা হয়েছে বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকার কর্মকর্তাগণের কাছে।
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, চারখন্ডে বিভক্ত ফোবানার ৪০তম সম্মেলনের এই আয়োজনে ৪৭টি সংগঠন অংশ নেয় এবং বিভিন্ন পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন দিনাতজাহান মুন্নী, আাঁখি আলমগীর, সাজু খাদেম, শিরিন শিলা, জায়েদ খান, ইতিশা চৌধুরী এবং সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশনকারি সঞ্জয়। হোস্ট হিসেবে ছিল সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা বাংলাদেশ সমিতি এবং সহযোগী সংগঠন ছিল বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডা, সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা স্পোর্টস ক্লাব, ওয়ার্ল্ডফেয়ার এ্যান্ড ফিস্ট ইউএসএ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা। পুরো আয়োজনের জন্যে গঠিত কমিটির কর্মকর্তাগণের মধ্যে ছিলেন : কনভেনর আনোয়ার হোসেন সেন্টু, মেম্বার সেক্রেটারি রাসেল মিয়া, প্রধান সমন্বয়কারি নাজিমউল্লাহ লিটন, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সেক্রেটারি মুরাদ হোসেন, এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট শামস আহমেদ, ইভেন্ট কে-অর্ডিনেটর-এ কে এম হোসেন হিটু প্রমুখ।
নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্বেও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্বকারি বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর সমাগম ঘটায় ফোবানার সেন্ট্রাল কমিটির পক্ষ থেকে সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
মেলায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ড. এ কে এ মোমেন। ছবি-বাংলা গেজেট।
অজিৎ ভৌমিক/মোহাম্মদ হোসেন দীপু
নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের পথমেলায় বাংলা আর বাঙালির জয়গানের পাশাপাশি প্রিয় মাতৃভূমির কল্যাণে একযোগে কাজের সংকল্প উচ্চারিত হলো। বক্তৃতার পাশাপাশি গানে-গানেও ধ্বনিত হলো একই সংকল্প। সংবাদ বাংলা গেজেট নিউজ সার্ভিস।
১২ সেপ্টেম্বর শনিবার ভরদুপুরে আয়োজক সংগঠনের শীর্ষ কর্মকর্তাগণকে পাশে নিয়ে এই মেলার উদ্বোধন করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন। এ সময় প্রদত্ত সঙক্ষিপ্ত বক্তব্যে ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশ ভালো থাকলে, আমরা আপ্লুত হই। উন্নয়নে ভাসতে থাকলে সুদূর এই প্রবাসেও আনন্দের জোয়ার বইতে থাকে। একইভাবে বাংলাদেশের অবস্থা খারাপ দেখলে আমাদের রক্তক্ষরণ হয়। আমি অাশা করবো যারা সরকার চালাচ্ছেন, দেশে যারা আছেন, তারা দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করবেন। ড. মোমেন উল্লেখ করেন, আমরা সরকারে ছিলাম, আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। এই পশ্চিমা দেশে যে ধরনের সামাজিক পরিবেশ, এক ধরনের উন্নয়নের ধারা, আমরাও আমাদের দেশকে সেভাবে পরিচালনা করার চেষ্টা করেছি। অনেকটা কৃতকার্যতাও দেখেছেন। আমাদেরও দুর্বলতা ছিল। আমি আশা করবো, আগামীতে যারা ক্ষমতায় থাকবেন তারা সেই দুর্বলতাকে অভারকাম করে দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্যে কাজ করবেন।
মেলায় বক্তব্য দেন মর্টগেজ ব্যাঙ্কার আকিব হোসাইন। ছবি-বাংলা গেজেট।
এ সময় নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মইনুল ইসলাম। আরো ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আতাউল গনি আসাদ, কোষাধ্যক্ষ ও মেলার জন্যে গঠিত কমিটির প্রধান সমন্বয়কারি মইনুজ্জামান চৌধুরী, ইফজাল চৌধুরী, দরুদ মিয়া রনেল, আহবায়ক শেখ জামাল হোসেন, যুগ্ম আহবায়ক লায়েছ আহমেদ মিনু, সদস্য-সচিব হেলিম উদ্দিন, যুগ্ম সদস্য-সচিব কামরুল হোসেন প্রমুখ। হোস্ট সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন শাহীনুল ইসলাম, আব্দুর রহিম কাদির, জয়নালউদ্দিন লায়েক, মাশুক মিয়া, সৈয়দ লোকমান, বদরুলউদ্দিন, দেওয়ান মোতাচ্ছির প্রমুখ।
সোনিয়া শারমিনের সাবলিল উপস্থাপনায় সর্বস্তরের প্রবাসীর বিপুল করতালির মধ্যে আরো শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাড়ি-গাড়ি ক্রয়ে সর্বনিম্ন সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পাইয়ে দিয়ে কম্যুনিটিতে বিশেষভাবে পরিচিত ব্যাঙ্কার আকিব হোসাইন, জেবিবিএর সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান প্রমুখ। বাংলাদেশ সোসাইটির উভয় প্যানেলের প্রার্থীরাও মেলায় এসে ভোট প্রার্থনা করেছেন। অর্থাৎ পথমেলাটি এক পর্যায়ে কানায় কানায় পূর্ন হয় এবং বিভিন্ন পন্যের স্টলেও ভীড় লেগে গিয়েছিল।
শাহ মাবুব, কালামিয়াসহ জনপ্রিয় শিল্পীগণের পরিবেশনায় পুরো মেলা নেচে উঠেছিল আকর্ষণীয় পুরস্কারের র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হবার আগ পর্যন্ত। সিলেটের আঞ্চলিক গানের পাশাপাশি ছিল সকল বয়েসী প্রবাসীর জনপ্রিয় গানগুলো।
আয়োজক সংগঠনের প্রধান মইনুল ইসলাম মেলাকে সাফল্যমন্ডিত করতে ব্যাপক সাড়া দেয়ায় প্রবাসীগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
বিসমিল্লাহ হালাল লাইভ পোল্ট্রি-তে খাশী ও ভেড়া সংযোজনের ঘোষণার পর অনুষ্ঠিত বিশেষ দোয়া-মোনাজাত। ছবি-বাংলা গেজেট।
নিজস্ব প্রতিবেদক
মুরগ-মুরগী- কবুতরসহ নানা জাতের পাখী এবং গ্রোসারি-সামগ্রি সুলভে বিক্রির ২৪ বছরের পথ-পরিক্রমায় উডসাইডের ‘বিসমিল্লাহ হালাল লাইভ পোল্ট্রি মীট এ্যান্ড ফিশ মার্কেট’-এ পাওয়া যাবে খাশী ও ভেড়া। অর্থাৎ পছন্দের খাশী ও ভেড়া থাকবে বিসমিল্লাহ্তে। এরফলে কম্যুনিটির দীর্ঘদিনের একটি অভাব পূর্ণ হলো।
নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের সন্নিকটে উডসাইডে ৩৭-১৫ ৫৫ স্ট্রিটে অবস্থিত বিসমিল্লাহ হালাল লাইভে জীবিত খাশী ও ভেড়ার সংযোজন উপলক্ষে গত বৃহস্প্রতিবার বিশেষ এক দোয়া-মাহফিলে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মমিন ভূইয়া জানান, ফ্লোরিডায় ব্যবসার জন্যে বসবাসের সময় মনস্থির করেছিলাম কম্যুনিটির চাহিদার পরিপূরক হালাল পণ্যের গ্রোসারি স্টোর দেব। সে অনুযায়ী ২৪ বছর আগে উডসাইডে এই বিসমিল্লাহ হালাল স্টোর দেই। এ সময় তার ছোট ভাই অর্থাৎ বিসমিল্লাহর অন্যতম মালিক সালাম ভূইয়া জানান যে, সময়ের পরিক্রমা এবং প্রবাসীগণের অকুন্ঠ সহযোগিতায় এই জায়গাটি ক্রয়ে সক্ষম হয়ছি। সেজন্যেই এটিকে ঢেলে সাজিয়ে জীবিত খাশী ও ভেড়া রাখার ব্যবস্থাও হয়েছে। এখোন থেকে চিকেনের মত খাশী ও ভেড়াও পাওয়া যাবে। পছন্দের পর সেটি শরিয়া আলোকে জবাইয়ের ব্যবস্থাও থাকবে। কেউ ইচ্ছা করলে নিজেই জবাইয়ের সুযোগ পাবেন। সালাম ভূইয়া উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যেই বাফেলোতে ‘বিসমিল্লাহ এ্যাগ্রো ফার্ম’ স্থাপন করেছি। সেখানে গরু-ছাগল-ভেড়ার খামারও রয়েছে। গত ৩ বছর ধরে সেই খামারে বেড়ে উঠা গরু-খাশী-ভেড়া কুরবানী হচ্ছে। সামনের বছরও সেখানে গিয়ে পছন্দের গরু-খাশী-ভেড়া কুরবানী দিতে পারবেন। পাশাপাশি এখানেও থাকবে খাশী-ভেড়া। সুতরাং প্রবাসী বাংলাদেশীরাই শুধু নন-মুসলিম কম্যুনিটির চাহিদার পরিপূরক সবকিছু আমরা তুলনামূলকভাবে কম দামে বিক্রি করতে সক্ষম হচ্ছি। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, মৃদুভাষী সালাম ভূইয়া পিএইচডি করছেন শরিয়া অনুযায়ী হালাল পণ্য বিষয়ে। আরো উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশী মালিকানাধীন এটাই প্রথম একটি ফার্ম যেখানে জীবিত খাশী-ভেড়া, হাঁস-মুরগী এবং ঘুঘু-কবুতরসহ যাবতীয় পাখী বিক্রি হচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উডসাইডে সম্প্রসারিত ‘বিসমিল্লাহ হালাল লাইভ পোল্ট্রির’তে প্রতি পাউন্ড রেড চিকেনের দাম ৩.৯৯ ডলার এবং ১০টি ক্রয় করলে ২টি ফ্রি। সাদা চিকেনের দামও প্রতি পাউন্ডে ২.৯৯ ডলার করে এবং ১০টি ক্রয় করলে একটি ফ্রি দেয়া হচ্ছে। লাল রঙের ৩টি হার্ড চিকেনের দাম ১৮ ডলার করে।
বিশেষ এই দোয়া-মাহফিল সঞ্চালনা করেন মাওলানা শহিদুল্লাহ এবং শরিয়া আইন সম্পর্কে আলোকপাত করেন মাওলানা ফায়েক আহমেদ। মোনাজাতে নেতৃত্ব দেন মাওলানা আবু জাফর বেগ।
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ অনুষ্ঠানে নির্বাচনের সদস্যগণ। ছবি-বাংলা গেজেট।
বিশেষ সংবাদদাতা
নিউইয়র্ক অঞ্চলের সর্ববৃহৎ সংগঠন ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র নির্বাচনে সরাসরি দুটি প্যানেল অংশ নিচ্ছে। ৪৫ হাজার ভোটারের এ নির্বাচন হবে ২৫ অক্টোবর।
জ্যাকসন হাইটসের নিকটে বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব ভবনে ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চ’ড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের জানান, ৫ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি চলছে। সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র একজন (রাব্বি সৈয়দ)প্রার্থী ছাড়া অন্য ২১ আসনে দুই প্যানেলে ৪২ জন রয়েছেন। সকলেই মাঠে নেমেছেন নিজ নিজ প্যানেলের কর্মসূচি নিয়ে। সকলের কাছে সমাদৃত চমৎকার একটি নির্বাচনে আমরা অঙ্গিকারাবদ্ধ এবং এজন্যে গণমাধ্যমের সহযোগিতার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের। এ সময় তার পাশে ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য শামসুদ্দিন আজাদ, রুহুল আমিন সরকার, মিয়া মো. দুলাল এবং মিঠু হামিদ। বিদায়ী কমিটির সভাপতি সেলিম এম রহমান ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে গঠিত প্যানেলকে ‘বি প্যানেল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরদিকে ‘এ প্যানেল’ হচ্ছে আজমল হোসেন ও ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন প্যানেল।
প্যানেল-এ ‘র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। ছবি-বাংলা গেজেট।
প্রার্থীরা হলেন : সভাপতি পদে সেলিম এম এ রহমান এবং আজমল হোসেন। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট : মো. মহিউদ্দিন দেওয়ান এবং দুলাল বেহেদু, ভাইস প্রেসিডেন্ট:আবুল কালাম ভ’ইয়া এবং মো. কামরুজ্জামান, জেনারেল সেক্রেটারি: ফিরোজ আহমেদ, মোহাম্মদ আলী এবং রাব্বি সৈয়দ, সহকারি সাধারণ সম্পাদক নওশাদ হোসেন এবং হারুন-অর রশীদ, ট্রেজারার মো. নওশাদ হায়দার ও মফিজুল ইসলাম ভ’ইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল আনসারী ও জেড এইচ খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোস্তফা অনিক রাজ এবং আহমেদ আর চৌধুরী, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ ও সাঈদ গওসুল হোসেন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মনসুর আহমদ এবং কয়েস আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক মোহাম্মদ এ আকতার ও রোমানা আহমেদ, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক মোর্শেদ আলম ও হাসান খান, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক এ এস এম মইনউদ্দিন এবং মো. মইনউদ্দিন, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক বেগম এম চৌধুরী ও শাহনাজ হোসেন, যুব ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গির শহীদ সোহরাওয়ার্দি ও কাজী আর হাসান। নির্বাহী কমিটির সদস্যরা হলেন ‘প্যানেল এ’ থেকে সিরাজউদৌলাহ হক, মো. এ সিদ্দিক, মো. আব্দুল বশির, মাসুদুল হক সানু, মো. কাওসার আলম এবং মোহাম্মদ এম ইসলাম। প্যানেল বি থেকে মো. উজ্জল পিপুল, সরোয়ার খান, শামীম আহমেদ, কাজী রবিউজ্জামান, মো. এ মান্নান এবং আব্দুল মালেক খান।
প্যানেল-বি’র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। ছবি-বাংলা গেজেট।
৭৬ বছর বয়েসী বাংলাদেশ সোসাইটির বিগত দিনে কোন কোন পর্যায়ের নেতৃত্বে কম্যুনিটির কল্যাণে আন্তরিক উদ্যোগ পরিলক্ষিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এর সদস্য সংখ্যা আশাব্যঞ্জকভাবে বৃদ্ধি পেলেও মূলধারার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে তেমন কোন অবদান রাখতে সক্ষম হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিদায়ী কমিটি নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে দূরের কথা জ্যাকসন হাইটসেও একটি প্যারেডের অনুমতি সংগ্রহে সক্ষম হয়নি। অথচ এই কমিটি এবং তাদের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত বোর্ড অব ট্রাস্টিতে কেউ কেউ রয়েছেন যারা মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি করে আসছেন। আসন্ন নির্বাচনে মাঠে নামা উভয় প্যানেলের প্রার্থীরাও বিগত দিনের মত নানা অঙ্গিকার করছেন। আগে নেতৃত্বে থেকে কিছুই করতে পারেননি-এমন প্রার্থীগণের মুখে কম্যুনিটির কল্যাণের অঙ্গিকার খুব একটা গুরুত্ব পাচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন না। অধিকন্তু সুধীজনে পুরনো প্রশ্নই আবর্তিত হচ্ছে যে, ৩৫ হাজার ভোটারের এই সংগঠনের প্রতি সাধারণ প্রবাসীগণের আগ্রহ থাকলে ভোটারের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যাবার কথা। কারণ, নিউইয়র্ক অঞ্চলে বর্তমানে তিন লাখের বেশী বাংলাদেশী বাস করছেন। যে ৩৫ হাজার জন ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন তার ৮০% এরও বেশী নিজে সদস্য ফি প্রদান করেননি বলেও গুঞ্জন রয়েছে। প্রার্থীরা দিয়েছেন অনেকের ফিÕর অর্থ-এটা কারোরই অজানা নেই। তারপরও অনেকে আশা করছেন অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে সোসাইটির নয়া নেতৃত্ব নবউদ্যমে আমেরিকান স্বপ্ন পূরণে বাস্তবমুখী কর্মসূচি নিতে দ্বিধা করবেন না। এক্ষেত্রে তাদেরকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে দূরে থাকতে হবে। জড়িয়ে পড়তে হবে ডেমক্র্যাট আর রিপাবলিকান শিবিরে।
মার্কিন নির্বাচনের আলোকে উভয় প্যানেলের শীর্ষ প্রার্থী নিয়ে একটি বিতর্ক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। আইটি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে যোগাযোগ করেছেন। সোস্যাল মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচারের চেষ্টাও চলছে পুরো অনুষ্ঠানটি। এরফলে প্রার্থীগণের অঙ্গিকার এবং অতীতে কি করেছেন সে সব নিয়েও সরাসরি কথা বলা সম্ভব হবে। এমন আয়োজনের কথা অতীতে কোন কোন আঞ্চলিক সংগঠনের নির্বাচন উপলক্ষে বলা হলেও বাস্তবে তা দৃশ্যমান হয়নি। ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানের উদ্যোগ অবশ্য নতুন প্রজন্মে সাড়া জাগিয়েছে।
গ্রাউন্ড জিরোতে নির্মিত স্মৃতিসৌধে শাকিলা-নূরুল হক মিয়ার স্বজনেরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
আনিসুর রহমান/অজিৎ ভৌমিক
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ভয়ংকরতম সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকায় হিল সাইডে একটি পার্টি হলে ‘বাংলাদেশী আমেরিকান্স ইন নিউইয়র্ক’র ব্যানারে এক শ্রদ্ধাঞ্জলী-স্মরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ‘আমরা কখনো ভুলবো না’ মন্ত্রে উজ্জীবিত এ সমাবেশে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ট্যুইন টা্ওয়ারে আত্মঘাতি হামলার স্মৃতিচারণের পাশাপাশি ঐ হামলায় দায়ী ও মদদদাতাদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করা হয়। নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় শুরুতে নিরবতা পালন ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রাউন্ড জিরোতে শাকিলা-নূরুল হক মিয়ার স্বজনেরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
উল্লেখ্য, ৬ বাংলাদেশীসহ মোট ২৯৭৭ জনের প্রাণ ঝরেছে ১১ সেপেটম্বর মঙ্গলবারের সেই হামলায়। সমাবেশে কম্যুনিটির বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্বকারিরা ছিলেন। আয়োজকদের অন্যতম এবং সঞ্চালক সাংবাদিক শেখ সিরাজ, সাঈদ তারেক এবং অধ্যাপক আজিজুল হক মুন্নাসহ ভয়ংকর সেই সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ড. মহসিন পাটোয়ারী, কম্যুনিটি লিডার ওসমান গনি, প্রবীন সাংবাদিক মনজুর আহমেদ, মূলধারার রাজনীতিক এডভোকেট মজিবর রহমান, সাংবাদিক মাহমুদ খান তাসের, কম্যুনিটি লিডার নারগিস আহমেদ, নাসির খান পল, বিএনপি নেতা শাহজাহান শেখ, কবি সালেহা ইসলাম, মনিউর রহমান জাহাঙ্গীর, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন, সামছুল মবিন, ফিরোজ আলম, শাহ আলম দুলাল প্রমুখ।
স্মরণ সমাবেশে (বাম থেকে) আজিজুর রহমান, ড. মহসিন পাটোয়ারি, শাহজাহান শেখ, শেখ সিরাজ, আজিজুল হক মুন্না। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
ট্যুইন টাওয়ারের গুরুত্ব এবং মানবিকতা আলোকে স্মৃতিচারণ করেন আজিজুর রহমান। উল্লেখ্য, তিনি সেখানকার সিকিউরিটি মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তবে সৌভাগ্যক্রমে ঐদিন বিকেলের শিফটে (বেলা ২টা থেকে) থাকায় প্রাণে বেঁচে গেছেন।
বক্তারা উল্লেখ করেছেন, এটাই আমাদের দেশ এবং এই দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্তদের প্রতিহত করার দায়িত্বও আমাদের। সন্ত্রাসীদের কোন জাতি, ধর্ম, অঞ্চল অথবা বর্নের পরিচয় থাকতে পারে। ওদের পরিচয় একটাই এবং তা হচ্ছে মানবতার দুশমন। ঐ দুশমনদের চিহ্নিত এবং নির্মূলের দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের। এজন্যে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
৬ বাংলাদেশী ভিকটিম।
শিব্বীরআহমেদজানান: ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্মরণসভা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নিহতদের স্মরণ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া ও পেনসিলভানিয়ায় হামলার তিনটি প্রধান স্থানে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও পালিত হয়েছে দিনটি। একই দিনে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সদ্য অবমুক্ত করা গোয়েন্দা নথি প্রকাশ পাওয়ায় হামলার আগে ওসামা বিন লাদেন ও আল-কায়েদার তৎপরতা সম্পর্কে মার্কিন কর্মকর্তারা কী জানতেন, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০০১ সালের ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। আল-কায়েদার ১৯ সদস্য চারটি বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে সমন্বিত হামলা চালায়। দুটি বিমান নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। তৃতীয় বিমানটি ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে অবস্থিত পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে। চতুর্থ বিমান ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩ পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে বিধ্বস্ত হয়। যাত্রীরা বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করার পরই এটি মাটিতে পড়ে।
গ্রাউন্ডজিরোতেস্বজনদেরঅশ্রুসিক্তস্মরণ
নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের গ্রাউন্ড জিরোতে নিহতদের স্বজনেরা শুক্রবারের মূল স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে নিহতদের নাম পাঠ করেন তাদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। স্থানীয় সময় ২০০১ সালের এই সময়েই আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১১ বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের উত্তর টাওয়ারে আঘাত হেনেছিল। নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাশাপাশি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা ও জো বাইডেন উপস্থিত ছিলেন। নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে বর্তমান ও সাবেক জাতীয় নেতাদের এই উপস্থিতি ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
স্মরণ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ টাওয়ারে হামলা, পেন্টাগনে বিমান আঘাত এবং ফ্লাইট ৯৩ বিধ্বস্ত হওয়ার সময়গুলোতেও নীরবতা পালন করা হয়। এ বছর প্রথমবারের মতো বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র এলাকায় বিষাক্ত ধূলিকণা ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থের সংস্পর্শে এসে পরবর্তী সময়ে যারা অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন, তাদের স্মরণেও একটি আলাদা নীরবতা পালন করা হয়েছে। ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়াম জানিয়েছে, বার্ষিক স্মরণ অনুষ্ঠানের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল নিহতদের জীবন ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের আকাশে ঐতিহ্যবাহী ‘ট্রিবিউট ইন লাইট’ কর্মসূচির মাধ্যমে দুটি আলোকরশ্মি জ্বালানো হয়।
পেন্টাগনেট্রাম্পেরস্মরণঅনুষ্ঠান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে পেন্টাগনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৯/১১-এর ২৫তম বার্ষিকী স্মরণ করেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ছিনতাই করা আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৭৭ পেন্টাগনে আঘাত হানে। এতে বিমানের যাত্রী ও পেন্টাগনে থাকা ১৮৪ জন নিহত হন।
ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সামরিক ও সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পেন্টাগনের অনুষ্ঠানে হামলায় নিহত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিমানের যাত্রীদের স্মরণ করা হয়। বক্তব্যে ট্রাম্প ও হেগসেথ ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার সঙ্গে বর্তমান মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দেশের সামরিক ভূমিকার বিষয়ও তুলে ধরেন। ভার্জিনিয়ার আর্লিংটন কাউন্টিসহ অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকাতেও স্থানীয়ভাবে নিহত, উদ্ধারকর্মী ও হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
পেনসিলভেনিয়ায়স্মরণ
পেনসিলভেনিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে ফ্লাইট ৯৩ ন্যাশনাল মেমোরিয়ালে শুক্রবার নিহত ৪০ যাত্রী ও ক্র’র সদস্যকে স্মরণ করা হয়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ছিনতাইয়ের পর যাত্রীরা টেলিফোনে অন্য বিমানগুলো বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ও পেন্টাগনে আঘাত হানার খবর জানতে পারেন। এরপর তারা ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিমানটি শ্যাঙ্কসভিলের কাছে একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। অনুষ্ঠানে নিহত যাত্রী ও ক্রদের নাম পাঠ করা হয় এবং তাদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। ফ্লাইট ৯৩-এর যাত্রীদের প্রতিরোধ ৯/১১ হামলার ইতিহাসে সাধারণ মানুষের সাহসিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে স্মরণ করা হয়।
সিআইএর৭১টিগোয়েন্দানথিপ্রকাশ
৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তিতে ওয়াশিংটনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএর সদ্য অবমুক্ত করা ৭১টি গোয়েন্দা নথি। প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে ৭০টি হামলার আগে তৈরি এবং একটি ২০০১ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের। এসব নথি প্রেসিডেন্টস ডেইলি ব্রিফের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও জর্জ ডব্লিউ বুশসহ শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া হয়েছিল।
নথিগুলো থেকে দেখা যায়, হামলার বহু বছর আগেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওসামা বিন লাদেন ও আল-কায়েদার কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছিল। ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারির একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বিন লাদেনের রাসায়নিক, জৈবিক ও পারমাণবিক উপাদান সংগ্রহের আগ্রহের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। অন্যান্য প্রতিবেদনে আল-কায়েদার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, আফগানিস্তানে তাদের কার্যক্রম এবং বিন লাদেনকে হস্তান্তর করতে তালেবানের অনীহার বিষয় উঠে আসে।
১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বিস্ফোরকবোঝাই বিমান ব্যবহার করে আল-কায়েদার সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করার কথাও বলা হয়েছিল। পরবর্তী কিছু প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য বিমান ছিনতাই এবং বিভিন্ন স্থাপনায় নজরদারির বিষয় উঠে আসে।
২০০১ সালের আগস্টের বহুল আলোচিত প্রেসিডেন্টস ডেইলি ব্রিফে ‘বিন লাদেন ডিটারমাইন্ড টু স্ট্রাইক ইন ইউএস’ শিরোনামে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে দেশটির অভ্যন্তরে বিমান ছিনতাইসহ সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সন্দেহজনক তৎপরতার কথা উল্লেখ ছিল।
তবে নতুন করে প্রকাশিত নথিগুলো ৯/১১ হামলা প্রতিরোধে মার্কিন সরকারের ব্যর্থতার বিষয়ে বিদ্যমান ঐতিহাসিক মূল্যায়নকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে না। বরং এসব নথি হামলার আগে মার্কিন কর্মকর্তাদের হাতে থাকা গোয়েন্দা তথ্য এবং আল-কায়েদার হুমকি সম্পর্কে তাদের ধারণার আরও বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে। ৯/১১ কমিশনের তদন্তে এর আগে বলা হয়েছিল, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, ব্যবস্থাপনা, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বিদ্যমান তথ্য যথাযথভাবে বিশ্লেষণ ও কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যর্থতা হামলা প্রতিরোধে সরকারের সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করেছিল।
গ্রাউন্ডজিরোরবিষাক্তধূলিকণারস্বাস্থ্যঝুঁকি
৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তিতে নিউইয়র্কে হামলার দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে। বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ ও ধূলিকণার সংস্পর্শে আসা হাজার হাজার অগ্নিনির্বাপক, পুলিশ কর্মকর্তা, উদ্ধারকর্মী, নির্মাণশ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য মানুষ পরবর্তী বছরগুলোতে বিভিন্ন গুরুতর রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। নিউইয়র্কের অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ নিয়মিতভাবে এমন সদস্যদের নাম স্মরণ করছে, যারা বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। বিভাগটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯/১১-সংশ্লিষ্ট অসুস্থতায় ৬০০-এর বেশি অগ্নিনির্বাপক মারা গেছেন।
এদিকে নিউইয়র্ক সিটি সরকার বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র এলাকায় হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সরকারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশের কাজ শুরু করেছে। এসব নথির মধ্যে বায়ুর মান, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং সেই ঝুঁকি সম্পর্কে বাসিন্দা ও কর্মীদের কী তথ্য দেওয়া হয়েছিল, সে-সংক্রান্ত নথিও রয়েছে। নতুন নথি প্রকাশের ফলে হামলার পর লোয়ার ম্যানহাটানের বায়ু ও পরিবেশের ঝুঁকি সম্পর্কে কর্মকর্তারা কী জানতেন এবং কখন তা জনসাধারণকে জানানো হয়েছিল—সে প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে।
জাতীয়নিরাপত্তাওপররাষ্ট্রনীতিতেদীর্ঘমেয়াদিপ্রভাব
৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। কংগ্রেস হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করে। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় জোরদার করা হয়। বিমানবন্দর ও বিমান ভ্রমণে নিরাপত্তাব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করা হয়। হামলার পর আল-কায়েদা ও তালেবানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০০৩ সালে ইরাকেও সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তী প্রায় দুই দশক ধরে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধ মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
এই দুই যুদ্ধে হাজার হাজার মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হন। একই সঙ্গে আফগানিস্তান ও ইরাকে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষও প্রাণ হারান।৯/১১-পরবর্তী সময়ে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ, নজরদারি, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক চলে।
মুসলিমওদক্ষিণএশীয়আমেরিকানদেরওপরপ্রভাব
৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম, আরব ও দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও হামলার ব্যাপক প্রভাব পড়ে। হামলার পরবর্তী বছরগুলোতে এসব সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিদ্বেষমূলক অপরাধ, বৈষম্য, জাতিগত ও ধর্মীয় প্রোফাইলিং এবং বাড়তি সরকারি নজরদারির মুখোমুখি হন। তবে একই সময়ে মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পেশাগত জীবনে আরও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের স্মরণ কর্মসূচিতেও তাই হামলায় নিহতদের পাশাপাশি হামলার পরবর্তী সামাজিক ও মানবিক প্রভাবের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে।
টেক্সাসসহদেশজুড়েস্মরণকর্মসূচি
নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া ও পেনসিলভানিয়ার তিনটি প্রধান স্থানের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও শুক্রবার ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মরণসভা, প্রার্থনা, প্রদর্শনী, পতাকা উত্তোলন, বিশেষ অনুষ্ঠান ও অন্যান্য কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। টেক্সাসের হিউস্টনে একটি আন্তধর্মীয় স্মরণ অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবীরা ৯/১১ হামলায় নিহত ২ হাজার ৯৭৭ জনের নাম পাঠ করেন। একই অনুষ্ঠানে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে নিহতদেরও স্মরণ করা হয়। দেশটির বিভিন্ন শহরে স্থানীয় বাসিন্দা, অগ্নিনির্বাপক, পুলিশ কর্মকর্তা ও উদ্ধারকর্মীদের স্মরণে পৃথক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। অনেক অনুষ্ঠানে হামলায় নিহত স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিবার এবং ৯/১১-পরবর্তী সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়া উদ্ধারকর্মীদেরও সম্মান জানানো হয়।
২৫বছরপরনতুনপ্রজন্মেরকাছে৯/১১
৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তির সময় যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি প্রজন্ম বড় হয়ে উঠেছে, যারা হামলার দিনটির কোনো ব্যক্তিগত স্মৃতি বহন করে না। ২০০১ সালের পর জন্ম নেওয়া অনেক আমেরিকানের কাছে ৯/১১ এখন ইতিহাসের একটি ঘটনা। তারা হামলার ছবি, ভিডিও, নথি, স্মৃতিচারণ ও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সেই দিনের ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারে।
তবে নিহতদের স্বজন, হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষ এবং প্রথম সারির উদ্ধারকর্মীদের কাছে ৯/১১ এখনো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘস্থায়ী শোকের বিষয়। নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরো, ভার্জিনিয়ার পেন্টাগন এবং পেনসিলভেনিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে শুক্রবারের কর্মসূচিগুলোতে তাই হামলার রাজনৈতিক বা সামরিক প্রভাবের চেয়ে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণই ছিল প্রধান বিষয়।
২৫বছরপরওঅব্যাহতপর্যালোচনা
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ২৫ বছর পরও যুক্তরাষ্ট্রে ওই দিনের ঘটনা এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। সিআইএর নতুন নথি হামলার আগে বিন লাদেন ও আল-কায়েদার তৎপরতা সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে থাকা তথ্যের আরও কিছু বিবরণ সামনে এনেছে। নিউইয়র্কে প্রকাশিত সরকারি নথি হামলার পর বিষাক্ত ধূলিকণা ও বায়ুর মান নিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
অন্যদিকে ৯/১১-পরবর্তী সামরিক অভিযান, জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। শুক্রবারের স্মরণ কর্মসূচিতে এসব বিতর্কের পাশাপাশি মূল গুরুত্ব ছিল প্রায় ৩ হাজার নিহত মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন। ২৫ বছর পরও ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাদায়ক দিন হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন নথি, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য এবং হামলার পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্তের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে সেই দিনের ঘটনাগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ও জনপর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
প্রবাসের জনপ্রিয় জুটি প্রমিতাজ ও রায়ান তাজের জনপ্রিয় গানের আসর বসবে ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডে অবস্থিত কুইন্স প্যালেসে (Queens Palace, 37-11, 57th Street, Woodside, NY 11377 )। ‘জনপ্রিয় গানের একটি মন্ত্রমুগ্ধ-রজনী’ (A Mesmerizing Musical Night) শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে এই শিল্পী দম্পতি বাংলা সঙ্গীত ও সংস্কৃতির আবহকে আরো প্রাণবন্ত করতে বিস্তারিত প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। আর এ অনুষ্ঠানটি হবে Ôলাইভ ফিউশন এন্টারটেইনমেন্টÕর উদ্যোগে। আয়োজকরা জানিয়েছেন কুইন্স প্যালেসের গেট খুলবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। নিউইয়র্ক ও আশপাশের এলাকার প্রবাসী বাংলাদেশি সংগীতপ্রেমী, সাংস্কৃতিক অনুরাগী এবং শুভানুধ্যায়ীদের এই বিশেষ সন্ধ্যায় উপস্থিত থাকার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন সঙ্গীতের বিশেষ এ আয়োজনটি হয়ে উঠবে সংগীত, সংস্কৃতি, আনন্দ ও মিলনের এক স্মরণীয় সন্ধ্যা। অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে ৩৪৭-৩০৯-৮৩৪১ নম্বরে ফোন অথবা ই-মেইল: tjsoundsnyc@gmail.com করা যাবে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৬ বাংলাদেশীর মধ্যে শাকিলা ইয়াসমিনের নামে তার গ্রামের বাড়িতে ‘শাকিলা স্মৃতি আবাসন’-এ দরিদ্রতম ১৯টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয় কয়েক বছর আগে। গ্রাউন্ড জিরোতে হারিয়ে যাওয়া একমাত্র কন্যা শাকিলার স্মৃতি রক্ষায় সিলেটের মৌলভীবাজারের গ্রামের বাড়িতে শাকিলা ইয়াসমিনের স্মরণে তার বাবা শরীফ চৌধুরী নির্মিত এই প্রকল্পের বাসিন্দাদের কাছে শীঘ্রই মালিকানা দলিল হস্তান্তরের কথা জানালেন শরীফ চৌধুরী। ঐ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সংবাদদাতাকে শরিফ চৌধুরী আরো জানান, বয়সের কারণে নানাবিধ অসুস্থতায় দিনাতিপাত করছি। নিকটজনদের দায়িত্ব দিয়েছি ঐ পরিবারগুলোর দেখভালের। তবুও স্বস্তি পাচ্ছি না। কারণ ওদের যদি মনোকষ্ট বাড়ে তাহলে আমার মেয়েটির আত্মা শান্তি পাবে না। এজন্যেই শীঘ্র বাংলাদেশে গিয়ে ঐসব জমির দলিল করে দিয়ে আসবো।
শরীফ চৌধুরী বললেন, ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সিটির গ্রাউন্ড জিরোতে (টুইন টাওয়ার ধ্বসে পড়ার স্থান) স্মরণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলী সমাবেশে শাকিলার মা-সহ এসেছেন। সেখানে তারা আরো শতশত সন্তান হারানো স্বজনের সাথে শাকিলার নাম খোদাই করা স্মৃতির পাথরে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করেন। অসহনীয় স্মৃতি রোমন্থনকালে শরীফ চৌধুরী জানালেন, দীর্ঘ ২৫ বছরের একটি মুহূর্তও ভুলে থাকতে পারিনি শাকিলাকে। ২০০১ সালে তার বয়স হয়েছিল ২৬ বছর। শাকিলা কাজ করতেন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারে অবস্থিত মার্ক এ্যান্ড ম্যাকলিলনে। কর্মরত অবস্থায়ই ইন্তেকাল করেছেন। তার স্বামী নূরুল হক মিয়াও কাজ করতেন একই কোম্পানীর অডিওভিজ্যুয়াল টেকনোলজির ডিরেক্টর হিসেবে। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার সন্তান নূরুল হক মিয়ার স্মরণে সেখানে একটি এতিমখানা-কাম মাদ্রাসা নির্মাণ করেছেন তার পরিবার। শরীফ চৌধুরী বললেন, তাদের উভয়ের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া-মোনাজাত হচ্ছে গ্রামের বাড়িতেও। শরিফ চৌধুরী জানালেন যে, ঐ সন্ত্রাসী হামলায় সত্যিকার অর্থেই যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চাই।
ব্রুকলীনে শাকিলা-নূরুল হক মিয়া ওয়ে। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
নূরল হক মিয়া-শাকিলা ইয়াসমিন দম্পতি বাস করতেন নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে বে রিজ এলাকায়। এই দম্পতির স্মরণে তাদের বাসার সামনের সড়কের নামকরণ ২০০৫ সালে করা হয়েছে, ‘শাকিলা ইয়াসমিন অ্যান্ড নূরল হক মিয়া ৯/১১ মেমরিয়্যাল ওয়ে’। সেখানেও স্মরণ-সমাবেশ করছেন এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, ঐ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছে ২৯৭৭ জন। তারমধ্যে বাংলাদেশী ছিলেন ৬ জন। অপর ৪ জন হলেন মোহাম্মদ শাহজাহান, আবুল কে চৌধুরী, সাব্বির আহমেদ এবং মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। তাদের স্বজনেরাও এসেছিলেন শুক্রবার ঐ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গ্রাউন্ড জিরোর সন্নিকটে ৯/১১ মেমরিয়্যাল এ্যান্ড মিউজিয়ামে শোক-শ্রদ্ধাঞ্জলি সমাবেশে।
এ সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ, বারাক ওবামা, বিল ক্লিন্টন, জো বাইডেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ইউএস সিনেটর চাক শ্যুমার, সাবেক মেয়র ব্লুমবার্গ সহ নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির স্টেট গভর্নর ছাড়াও সিনেটর-কংগ্রেসম্যানরা ছিলেন। গ্রাউন্ড জিরোতে সিটি মেয়র জোহরান মামদানিকে সাবেক মেয়র জুলিয়ানির সাথে করমর্দন করতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, দুদিন আগেই মামদানিকে এই স্মরণ সমাবেশে আসতে বারণ করেছিলেন ২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার সময়ের সিটি মেয়র জুলিয়ানি।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় বেশ কজন বাংলাদেশীসহ অর্ধ শতাধিক নির্মাণ শ্রমিক নিহত এবং আহত হয়েছেন। তারা ওষা কার্ডধারী এবং এসএসটি সার্টিফিকেটধারী হলেও ক্ষতিপূরণের মামলার সময় তার সত্যতা মেলেনি। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়াই হয়তো সার্টিফিকেট পেয়েছিলেন, যার খেসারত দিতে হয়েছে প্রাণের বিনিময়ে-অভিমত প্রবীন নির্মাণ ব্যবসায়ীগণের।
নিজস্ব প্রতিনিধি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্ম, সংগীত ও সাহিত্যকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ২১তম ‘নর্থ আমেরিকা নজরুল কনফারেন্স’ উপলক্ষে ৬ সেপ্টেম্বর আয়োজন করা হয় এক প্রতিযোগিতার। মেধাবি প্রতিভাসম্পন্ন শিশু ও তরুণ-তরুণী বাছাইয়ের এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডে হলিডে ইন এক্সপ্রেসে।
উত্তর আমেরিকায় বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের বাংলা সংস্কৃতি ও নজরুলের সৃষ্টির সঙ্গে আরও গভীরভাবে পরিচিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে এই প্রতিযোগিতায় ৫–১১ বছর এবং ১২–১৮ বছর বয়সী প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করে। বিষয় ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান ও সাহিত্য। একক প্রতিযোগিতায় নৃত্য, কণ্ঠসংগীত ও আবৃত্তি—এই তিনটি বিভাগে প্রতিযোগিরা তাদের প্রতিভা তুলে ধরে।
প্রবাসের মাটিতে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং বাংলা সংস্কৃতির প্রতি তাদের আগ্রহ ছিল বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। তাদের পরিবেশনা শুধু উপস্থিত দর্শকদের আনন্দিত করেনি, বরং প্রমাণ করেছে যে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর আগ্রহ রয়েছে।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিশুকে সম্মানসূচক সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি বিভাগ ও বয়সভিত্তিক গ্রুপের বিজয়ীদের জন্য ট্রফি প্রদান করা হবে ২১তম কনফারেন্সের মূল মঞ্চে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ।
বাছাই পর্বে অভিভাবকের সাথে শিশু-কিশোরেরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
আরও আনন্দের বিষয় হলো প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রতিযোগীরা ১৯ সেপ্টেম্বর সম্মেলনের মূলমঞ্চে তাদের প্রতিভা উপস্থাপনের বিশেষ সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের (বাই) এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা নয়; বরং প্রবাসের নতুন প্রজন্মকে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সঙ্গে পরিচিত করা এবং তাদের সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।
জানা গেছে, কবিতা বিভাগে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন অনুতোষ সাহা ও শওকত খান দিপু। সঙ্গীত বিভাগে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ডরোথি বোস ও ফয়সল কাদের। নৃত্য বিভাগে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন পরমা সান্যাল ও রণবীর সাহা। এই প্রতিযোগিতা পর্বটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন বাইয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি আফরিন ফ্যান্সি এবং তাঁকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন বোর্ড সদস্য তানিয়া রহমান ও মুহাম্মদ দিদার।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয় বলে ‘বার্তা সংস্থা’ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে।
গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী খাজা তানভীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এনবিআরের যে দাবিটি আমরা হাই কোর্ট বিভাগে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, আদালত আজ সেই রুল খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে এনবিআরের দাবিটিই বহাল থাকল।”
রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছি। মক্কেলের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
কবে নাগাদ ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে, তা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর জানা যাবে বলে তথ্য দেন তিনি।
এনবিআরের ওই কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে হাই কোর্টে রিট আবেদন করে গ্রামীণ কল্যাণ।
এর আগে মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ক্ষমতায় থাকাকালে তার পক্ষে গ্রামীণ কল্যাণের মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে, এমন সংবাদ প্রায় সব গণমাধ্যমে প্রচার হয়। তবে গত ১৪ জুলাই কর মওকুফ এবং মামলা প্রত্যাহারের খবর ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলেছিলেন প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।
মামলাটি বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বলেও তথ্য দিয়েছিলেন তিনি।
কর বিরোধের বিষয়টি সে সময় ব্যাখ্যা করে আইনজীবী মামুন বলেন, “গ্রামীণফোন থেকে লভ্যাংশ দেওয়ার সময় উৎসে ১৫ শতাংশ কর কেটে রাখা হয়। সেই কর পরিশোধের পর আবার কেন অতিরিক্ত কর ধার্য করা হবে- এই প্রশ্নেই আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। অথচ বিষয়টি কর ফাঁকির মামলা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।”
মামলার সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পৃক্ততার বিষয়ে মামুন বলেন, “তিনি একসময় গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে মামলাটি প্রতিষ্ঠানের নামে চলছে এবং বর্তমান কর্মকর্তারাই আইনগতভাবে এটি পরিচালনা করছেন।”
ভোটের বিনিময়ে মাথাপিছু ৫ হাজার ডলার করে প্রদানের অঙ্গিকার করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আসছে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তি নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয়কক্ষে (সিনেট ও হাউজ) রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা অটুট রাখলেই প্রাপ্ত বয়স্ক প্রত্যেক আমেরিকানের নামে ঐ চেক ইস্যুর অঙ্গিকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে অনুষ্ঠানরত রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তি জাতীয় সম্মেলনের প্রথম রজনীতে পৌণে দুই ঘন্টার অধিক সময়ের এই ভাষণে মূলত: আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিগণের পক্ষে ভোট প্রার্থনার আকুতি উচ্চারিত হয়েছে। ৫ হাজার ডলার করে প্রদানের এই অঙ্গিকার বাস্তবায়িত করতে ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের মত লাগবে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ২৭ কোটি প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ আছেন বলে সেনসাস ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দেনার পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার। এমন একটি নাজুক পরিস্থিতি সত্বেও আরো ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার প্রদানের অঙ্গিকারকে অনেকে অযৌক্তিক মনে করছেন। আরো উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ট্রাম্প একাধিকবার বলেছিলেন যে, জয়ী হতে পারলে তিনি ক্ষমতা গ্রহণের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধ থামাবেন। এমনকি বিরাজমান মূল্যস্ফীতি দূর করার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গিকারও করেছিলেন। এর আগে ২০১৬ সালের নির্বাচনী অঙ্গিকারের অন্যতম ছিল সীমান্তে দেয়াল নির্মানের তহবিল মেক্সিকো-কে প্রদান করতে হবে। বাস্তবে কী তা ঘটেছে?
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির ইতিহাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে বড় কোন দলের ‘মধ্যবর্তী জাতীয় সম্মেলন’ আয়োজনের রেকর্ড নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন আয়োজনের মধ্যদিয়ে নিজ দলের প্রার্থীগনের নাজুক অবস্থা ঠেকানোর কৌশল অবলম্বন করেছিলেন বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। এমনকি, একেকটি ভোটের মূল্য ৫ হাজার ডলার করে স্থির করতেও দ্বিধা করেননি-যা বিদ্যমান আইনের পরিপন্থি বলে নির্বাচনী আইন নিয়ে কর্মরতরা মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্পের অতিতের অঙ্গিকার পূরণের ইতিহাস খুব একটা না থাকায় এবারের এই টোপ তেমন কাজে আসবে বলে সচেতন নাগরিকেরা গণমাধ্যমে তাৎক্ষণিক মন্তব্যে প্রকাশ করেছেন। এ সময় অবশ্য ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমক্র্যাটদের একটি অঙ্গিকারের কথা স্মরণে এনেছেন সুধীজনেরা। সে সময় জর্জিয়া সিনেট নির্বাচনের সময় ডেমক্র্যাটরা অঙ্গিকার করেছিলেন যে, ইউএস সিনেটের ঐ আসনটি তাদের প্রদান করা হলে প্রত্যেক আমেরিকানের নামে দুই হাজার ডলারের করোনা ভাইরাস রিলিফ চেক ইস্যু করা হবে। জর্জিয়ার আসনে জয় পেয়েছে ডেমক্র্যাটরা। এবং পরবর্তীতে দুই হাজার ডলারের চেক প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প তার সর্বশেষ অঙ্গিকার অনুযায়ী মাথাপিছু দুই হাজার ডলারের ‘ট্যারিফ চেক’ প্রদান করেননি। এর আগে ইলন মাস্কের মদদ অনুযায়ী ফেডারেল কর্মচারি ঢালাওভাবে ছাটাইয়ের মাধ্যমে সাশ্রয় হওয়া অর্থ থেকে মাথাপিছু ৫ হাজার ডলার করে প্রদান করেননি। অর্থাৎ অঙ্গিকার পূরণ না করার অনেক উদাহরণ রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। ট্রাম্পের এমন অঙ্গিকারের কঠোর সমালোচনা করে ‘দ্য সেন্টার ফর ইলেকশন ইনোভেশন এ্যান্ড রিসার্চ’র নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বেকার গণমাধ্যমে বলেছেন, ট্রাম্পের এমন কথাবার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন-ব্যবস্থাকে সন্দেহপ্রবণ করে তোলার একটি প্রয়াস পরিলক্ষিত হচ্ছে।
মরমী জ্ঞান সাধক গাজী বংশের শেষ জমিদার শের আলী গাজী’র স্মৃতি বিজড়িত
প্রবাসী শেরপুর জেলা সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক বনভোজন’২৬ ও মিলন মেলা।
৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক শহরের অদূরে লং আইল্যান্ডের বেবিলনের বেলমন্ট লেক স্টেট পার্কে প্রায় আড়াই শতাধিক প্রবাসী শেরপুরবাসীসহ তাদের শুভাকাংখী ও বিভিন্ন জেলার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। দুপুর ১২টার দিকে লাল-নীল রং-বেরঙের বেলুন উড়িয়ে বনভোজনের শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মার্কস হোম কেয়ার ও কুইন্স এডাল্ট ডে কেয়ারের সিইও ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হকের প্রতিনিধি মার্কস হোম কেয়ারের মহা ব্যবস্থাপক মাসুম বিল্লাহ শিশির ।নিউ ইয়র্কের অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌর্দযে সজ্জিত লং আইল্যান্ড স্টেট পার্কে দিনব্যাপী এ বনভোজনে ছিল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনু্ষ্ঠান ও আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র । উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হল প্রবাসী শেরপুর জেলা সমিতির বার্ষিক বনভোজন ।
বনভোজনের উদ্বোধন করেন অতিথিগণ।
ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন নাইচ চৌধুরী, মো. সিরাজুল ইসলাম, রুপচাঁন মিয়া, ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ সুমন, রাশেদ মামুন ও রাকিবুল হাসান রাসেল, শামীম রেজা প্রমুখ। পড়ন্ত বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা । সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার প্রদোষ চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মাসুম বিল্লাহ শিশির, গেস্ট অব অনর বিশিষ্ট চিকিৎসক সফিউল্লাহ শিবলী, এম ডি, বিশেষ অতিথি খামার বাড়ী সুপার মার্কেটের স্বত্বাধিকারী ,বাংলাদেশ সোসাইটির সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, সাপ্তাহিক প্রবাস পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, দেশ পত্রিকার সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান , প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক মোঃ মনজুরুল হক, সংগঠনের সাবেক সভাপতি মামুন রাশেদ,ও সংগঠনের সাধারন সম্পাদক মোঃ ছামেদুল হক।
বনভোজনে বিভিন্ন পর্বে বিজয়ীগণের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিসহ কর্মকর্তারা।
প্রবাসী শেরপুরবাসীর এবারের বনভোজনে র্যাফেল ড্র’র প্রথম পুরুস্কার নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউ ইয়র্ক বিমান টিকেট প্রদান করেন মার্কস হোম কেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হক। দ্বিতীয় পুরস্কার ছিল সোনার গহনা সংগঠনের সভাপতি প্রদোষ চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক ছামেদুল হকের সৌজন্যে, তৃতীয় পুরস্কার ছিল ৫৫” তসিবা এলজিডি টিভি ইউ এস ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরের সিইও মশিউর রহমান মজুমদারের সৌজন্যে ।এ ছাড়াও ল্যাপটপসহ ১৩টি আকর্ষণীয় পুরুস্কার জিতে নেন প্রবাসী শেরপুরবাসী ও আমন্ত্রিত ভাগ্যবান অতিথিরা। আর্কষণীয় র্যাফেল ড্র পরিচালনা করেন প্রধান উপদেষ্টা সাংবাদিক আবুল কাশেম। তাঁকে সহযোগিতা করেন রাকিবুল ইসলাম রাসেল, ছামেদুল হক, শামীম রেজা,মামুন রাশেদ, লিটন জামান, ইনজিনিয়ার জাকির হোসেন প্রমুখ। পুরস্কার বিতরন করেন মাসুদ পারভেজ মুক্তা, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সংগঠনের সাবেক সভাপতি নাহিদ রায়হান লিখন। শিল্পী শামীম রেজা ও আনোয়ার হোসেন সহ স্হানীয় শিল্পীরা প্রায় সারা দিন দেশের গান পরিবেশন করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছামেদুল হক ঝন্টু ।