ফরিদা ইয়াসমিন
প্রিন্ট
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ
শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে নিউইয়র্কে শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ’র সমাবেশে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফরিদা ইয়াসমিন। নবান্ন পার্টি সেন্টারে ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হোস্ট সংগঠনের সভাপতি ডা. মাসুদুল হাসান। ছবি-বাংলা গেজেট।
ফরিদা ইয়াসমিন
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ নিহত সকলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু করেছি। ধন্যবাদ সভাপতি। ধন্যবাদ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও গণমানুষের নেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে এমন আয়োজন করার জন্য।
শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে বাংলাদেশের এক কঠিনতম সময়ে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে অমানিশা নেমে আসে। সেই অমানিশায় আলোকবর্তিকা হয়ে আসেন তিনি। হঠাৎ করে তিনি রাজনীতিতে এসেছেন—বিষয়টি তেমন নয়। শেখ হাসিনা একটি রাজনৈতিক পরিবারে জন্মেছেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন, একটি দেশের জন্য লড়াই করতে গিয়ে তাঁর বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বারবার কারারুদ্ধ হতে। গোপালগঞ্জ আদালতে তিনি দাদার সঙ্গে বাবাকে দেখতে যান। সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই শেখ কামাল। কামাল জন্মের পর বাবাকে ঠিকভাবে দেখেননি। শেখ হাসিনা বাবাকে দেখে ছুটে গিয়ে ‘বাবা, বাবা’ বলে চিৎকার করছিলেন। তখন পাশে থাকা ছোট কামাল বলছিল, ‘হাসু আপা, তোমার বাবাকে বাবা বলতে দেবে?’ অশ্রুসজল নয়নে ভাইয়ের দিকে তাকিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ইতিহাস আপন মহিমায় চলে। ষাটের দশকের উত্তাল রাজনীতির নীরব সাক্ষী তিনি। নিজেও অংশ নিয়েছিলেন ছাত্ররাজনীতিতে। ছিলেন ইডেন কলেজের ভিপি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্রী শেখ হাসিনা ৬৯-এর গণআন্দোলনেও ভূমিকা রেখেছিলেন। শেখ হাসিনা শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা কিংবা উত্তরাধিকার নন। তার জীবন, সংগ্রাম বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ অধ্যায়। এর বাঁকে বাঁকে রয়েছে নানা ট্র্যাজেডি নানা উত্থান পতনের কাহিনী। এ কাহিনী গল্পকেও হার মানায় । প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি একই সঙ্গে পেয়েছেন রাষ্ট্র পরিচালনার দীর্ঘ সুযোগ, নির্বাচনী সাফল্য, উন্নয়নের নানা স্বীকৃতি এবং তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতা ও সমালোচনা।
শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা। রাজনৈতিক পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁর জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। কতিপয় সেনা কর্মকর্তার হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হন। শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা তখন দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। এই ঘটনা তাঁর ব্যক্তিজীবন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনের গতিপথ আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে ।
নির্বাসন থেকে নেতৃত্বে
১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাঁকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়। ১৯৮১ সালই তিনি বাংলাদেশে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণ ও দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য খুব সহজ ছিল না। দেশে ফিরে তাঁর সামনে ছিল একদিকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন, অন্যদিকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলনের কঠিন বাস্তবতা। তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রামের অন্যতম বড় লক্ষ্য ছিল সামরিক শাসনের অবসান এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা। সেইসঙ্গে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করানো । ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া রুপসা থেকে পাথুরিয়া চষে বেড়িয়েছেন । “আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দেব “ এই স্লোগান তিনি চালু করেছিলেন । ১৯৯০ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এরশাদের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের সূচনা হয়। কিন্তু নানা ষড়যন্ত্র করে ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারিয়ে দেয়া হয়। শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন॥দমে যাননি শেখ হাসিনা । ১৯৯৬ সালে বিএনপির ভোটারবিহীন নির্বাচনের বিরুদ্ধে গণ আন্দোলন গড়ে তোলেন । শুরু হয় নতুন সংগ্রাম । মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন শেখ হাসিনা । ৩০ মার্চ খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়। ১৯৯৬ সালে মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে ১২ জুন নির্বাচনে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসীন হয় ।
প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী
১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই । দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম । দেশ নতুন করে ঘুরে দাঁড়ায় ।শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার যাত্রা শুরু করেন। তাঁকে সেই সময় অভিবাদন জানাতে বাংলাদেশে আসেন বিশ্বনেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, ইয়াসির আরাফাত ও সুলেমান ডেমিরেল। তাঁর প্রথম সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি একটি মাইলফলক ঘটনা। একটি বিদ্রোহী জনগোষ্ঠী নিজেদের স্বাধীন ভূখণ্ডের দাবিতে সশস্ত্র সংগ্রাম করে আসছিল । এই চুক্তির ফলে অস্ত্র ত্যাগ করে তারা মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ফিরে আসে। পাঁচ বছর পর ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারায়। এরপর বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা আবারও রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে যান। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তাঁর ওপর গ্রেনেড হামলা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত ও প্রায় ৩০০ জন আহত হন। শুধু ২১ আগস্ট নয়—বারবার হামলার লক্ষ্য হন তিনি । আন্তর্জাতিক পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের ২০১৯ সালের একটি নথিতে বলা হয়, ২১ আগস্টের আগে শেখ হাসিনার ওপর আরও ১৮টি হামলার ঘটনা ঘটে। তাঁর গাড়ি বহরে, ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে,চট্টগ্রামের লালদীঘির ময়দানে, সাতক্ষীরার কলাপাড়ায়, এমন কি নিজ জন্মস্থান কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে রাখা হয় তাঁর চলার পথে। কিন্তু কিছুই তাঁকে থামাতে পারেনি । তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে তাঁর কাজকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন । ফলে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা।
২০০৯ থেকে ২০২৪
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট বড় বিজয় অর্জন করলে ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা আবার প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি টানা ক্ষমতায় থাকেন। ফলে তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী । শেখ হাসিনা তাঁর সময়কালে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, যোগাযোগ অবকাঠামো, ডিজিটাল বাংলাদেশ, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ,পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসে। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে অবস্থান করে। তিনি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেন।পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতু নয়; বাংলাদেশের নিজস্ব সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক । ৪৫০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ সোয়া লাখ ভূমিহীন গৃহহীন মানুষকে ঘর প্রদান, প্রতিটি মানুষের কাছে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেয়া, দারিদ্র্য নির্মূল, করোনা সংকট মোকাবেলায় নানামুখী পদক্ষেপ বিশ্বের দৃষ্টি কেড়েছিল বাংলাদেশ । কোভিড ১৯ মোকাবেলায় প্রশংসিত বিশ্বের তিনজন রাষ্ট্রপ্রধানের একজ শেখ হাসিনা । মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের বাজেটের আকার ছিল ৯৯,৯৬২ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের বাজেটের আকার দাঁড়ায় ৭,৯৭,০০০ কোটি টাকা। শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি দিক হলো—তিনি শুধু ক্ষমতার রাজনীতি করেননি; তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার কথা।
শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে শান্তি, গণতন্ত্র, নারী ক্ষমতায়ন, জলবায়ু, শিক্ষা, দারিদ্র্য হ্রাস ও উন্নয়নে অবদানের জন্য বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের একটি সরকারি সংবাদভিত্তিক তালিকায় তাঁর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সংখ্যা ৩৭টি । নারীর ক্ষমতায়নের অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে UN Women-এর Planet 50-50 Champion – 2016 অর্জন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নীতিগত নেতৃত্বের জন্য তাঁকে Champions of the Earth – 2015 স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এটি United Nations Environment Programme-এর সর্বোচ্চ পরিবেশগত সম্মাননাগুলোর একটি। শিশুমৃত্যু হ্রাসে বাংলাদেশের অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে UN MDG Award – 2010 Millennium Development Goalsঅর্জন ইত্যাদি।
শেখ হাসিনার দুরদর্শী নেতৃত্বে ২০২০ সালে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে দ্বিতীয়বার সুপারিশ করে। ২০২৬ সালে চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু টেকসই উন্নয়নের পরিক্রমায় ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এর স্বপ্নযাত্রা ২০২৪ সালে থামিয়ে দেওয়া হলো। মেটিকুলাস ডিজাইনে একটি রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে এই অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়া হয়। এই থামিয়ে দেয়ার আশংকা বরাবরই ছিল। কারণ স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা বরাবরই নানা ষড়যন্ত্র করেছে। এদেশকে পাকিস্তানের ভাবধারায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে বারবার । তবে সব ষড়যন্ত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি সব নস্যাৎ করে দিয়েছে।
১/১১ এর সময় ফখরুদ্দীন মইনুদ্দিন সরকার শেখ হাসিনার দেশে ফেরায় বাধা দিয়েছিলেন। তিনি তখন লন্ডনে ছিলেন । সেই সরকারের বাধা উপেক্ষা করে দেশে ফিরে আসেন। তাঁকে এবং তার সফরসঙ্গীদের সরকার গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হবে জেনেই সমস্ত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা । ৮১ সালে তিনি যখন দেশে ফিরে আসেন তখনও অনেকে তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে তার দেশে আসা ঠিক হবে না। কিন্তু দলের সাধারণ কর্মী, এদেশের জনগণ অপেক্ষায় ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যার ফিরে আসার। তাইতো সেদিন ছিল বিমান বন্দরে মানুষের বাধভাঙ্গা জোয়ার। সেদিন ঢাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল । সেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষের ঢল নেমেছিল বঙ্গবন্ধু কন্যাকে এক নজর দেখার জন্য।
দেশ আজ ক্রান্তিলগ্নে । মানুষের নিরাপত্তা নেই । প্রতিদিন খুন গুমের ঘটনা ঘটছে। নির্বিচারে মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে । কারাগারে বিনা বিচারে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। গত ২৪ দিনে কারাগারে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে । ষড়যন্ত্র চক্রান্তের কবলে পড়ে শেখ হাসিনা আজ দেশের বাইরে। শেখ হাসিনা দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যাক্ত করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা। দেশের মানুষের এই ক্রান্তিকালে তিনি দূরে থাকতে পারেন না। আজ তাঁর পাশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষ অপেক্ষায় আছে বঙ্গবন্ধু কন্যা ফিরবেন। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। এই ফেরাটা সহজ নয়। ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও নানা ধরনের রাজনৈতিক বেড়াজাল ডিঙিয়ে তাঁকে ফিরতে হবে। দলীয় কোন্দল, গ্রুপিং—অনেক কিছুই আছে। কিন্তু দেশের স্বার্থে সবকিছু ভুলে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের অগ্নিপরীক্ষা । সেই পরীক্ষা পাশ করতে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। আজ তাঁর জন্মদিনে তাই শুধু জন্মদিনের শুভেচ্ছা নয়—তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। শেখ হাসিনার জন্মদিনে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করি।
বাংলাদেশের মানুষের শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করি।
জয় বাংলা । জয় বঙ্গবন্ধু ।
শুভ জন্মদিন বঙ্গবন্ধু কন্যা ॥(এটি উপস্থাপন করা হয় ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসে নবান্ন পার্টি সেন্টারে শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিনের সমাবেশে)।
Posted ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর