এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
সাধারণ সভায় হৈচৈ সাধারণ সদস্যগণের। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
এনওয়াই ভয়েস২৪ ডটকম
গত তিন বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের দাবি জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে নিউইয়র্ক পুলিশে ট্রাফিক এজেন্টদের সংগঠন ‘সিডব্লিউএ’র লোকাল ১১৮২’র সেক্রেটারি-ট্রেজারার সাঈদ ইসলাম কর্তৃক খান শওকতের ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালানোর অভিযোগে ২৫ অক্টোবর পুলিশ সাঈদ ইসলামকে গ্রেফতারের পরই ৩০ দিনের জন্যে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। খান শওকতকে লাঞ্ছিত করার জন্যে দায়েরকৃত অভিযোগের নম্বর হচ্ছে ২০২৬-০১৪-০১৩৩১৬। হামলাকারি সাঈদ ইসলাম এবং ভিকটিম খান শওকত-উভয়েই বাংলাদেশী আমেরিকান। উল্লেখ্য, ২১০০ সদস্যবিশিষ্ট এই শ্রমিক ইউনিয়নের এক তৃতীয়াংশ সদস্যই হলেন বাংলাদেশী আমেরিকান। অর্থাৎ একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশীরা শীর্ষে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে ইউনিয়নের একজন মেম্বার নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, নির্বাচন উপলক্ষে ২৫ অক্টোবর রোববার ম্যানহাটানের নরম্যান থমাস হাইস্কুলের অডিটোরিয়ামে সাধারণ সভাস্থানের বাইরে দাড়িয়ে খান শওকতের নেতৃত্বে একদল সদস্য সেক্রেটারি-ট্রেজারারের অনিয়ম, তহবিল খরচে স্বেচ্ছাচার এবং কয়েক লাখ ডলার আত্মসাতের তথ্য প্রকাশের দাবিতে একটি দরখাস্তে সাধারণ সদস্যগণের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছিল। এরপর দরখাস্তটি সংগঠনের শীর্ষ কর্মকর্তাগণের হাতে দেয়ার কথা। কিন্তু তার আগে সেক্রেটারি ট্রেজারার সাঈদ ইসলাম হামলা করেন খান শওকতের ওপর। শুধু তাই নয়, ভাড়া করা নিরাপত্তা প্রহরীকে নির্দেশ দেয়া হয় খান শওকতসহ অন্যেরা যাতে ঢুকতে না পারেন। এমনি অবস্থায় সাধারণ সভা শুরু হলে উপস্থিত অনেক সদস্য হৈচৈ শুরু করেন। খান শওকত সংগঠনের বৈধ সদস্য হওয়া সত্বেও কেন তাকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না-জানতে চাইলে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার সাদিক জাতিগতভাবে বাংলাদেশীদের টার্গেট করে অকথ্য বক্তব্য দিতে থাকেন। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট সাদেক হলেন মিশরীয় আমেরিকান।
সাঈদ ইসলামকে গ্রেফতার করে নিউইয়র্কের পুলিশ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
খান শওকতের ওপর হামলার সংবাদ জেনে পুলিশ এসে সম্মেলন কেন্দ্র থেকে সাঈদ ইসলামকে গ্রেফতারের পর নিকটস্থ ১৪ নম্বর পুলিশ স্টেশনে নেয়। এরপর তাকে আদালতে হাজির হবার টিকিটসহ মুক্তি দেয়া হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে ৩০ দিনের জন্যে সাসপেন্ড করার তথ্য জানানো হয়েছে।
ভিকটিম খান শওকত এ সংবাদদাতাকে জানান, ঘটনাটি সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ায় নিউইয়র্ক পুলিশে কর্মরত বাংলাদেশীরা বিব্রতবোধ করছেন। বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী সংগঠনের তহবিল তছরুপের বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাকে কেউই সহজভাবে নিতে চাচ্ছেন না। এছাড়া, সংগঠনের প্রেসিডেন্ট কর্তৃত বাংলাদেশীদের টার্গেট করে বক্তব্য দেয়াকেও অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবে মন্তব্য করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে সেক্রেটারি-ট্রেজারকে ফোন এবং মেসেজ রাখা হলেও এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত জবাব পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, ইউনিয়নের সাংগঠনিক কার্যক্রম, নেতৃত্বের জবাবদিহি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সাধারণ সদস্যদের মধ্যে জবাবদিহির দাবি জোরালো করার চেষ্টা করছিলেন খান শওকত ও তাঁর সমর্থকেরা। আরো জানা গেছে, সংগঠনে পরিপূর্ণ জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার সংকল্পে আসন্ন নির্বাচেনে খান শওকত সেক্রেটারি/ট্রেজারার পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরই অভ্যন্তরীণ বিরোধ চরমে উঠেছে। জানা গেছে, ডাকযোগে ভোট শুরু হবে ২৪ নভেম্বর এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে ২২ ডিসেম্বর।
Posted ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24