আনিসুর রহমান
প্রিন্ট
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ৫:২২ পূর্বাহ্ণ
সংবাদ সম্মেলনে দুই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, মিশনের প্রধান এবং পদস্থ কর্মকর্তারা। ছবি-বাংলা গেজেট।
আনিসুর রহমান
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের প্রথম দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্ক্রমের আলোকে সন্ধ্যায় বাংলাদেশ মিশনে এক প্রেসি ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গিরা কথা বলেন। ছিলেন স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খানও।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে বৈঠক করেছেন, সেখানে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও বিনিয়োগের মত বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় তুর্কি হাউসে তারেক-এরদোয়ান বৈঠক হয়।
হুমায়ুন কবির বলেন, “প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে একজন মূল্যবান ভাই হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে বলেছেন যে, তুরস্ক সরকার বাংলাদেশের সাথে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাত, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সাধারণ অবস্থান নেওয়া এবং কিছু নির্দিষ্ট মানবিক ইস্যুতে, বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
“এটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ একটি বৈঠক ছিল এবং দুই নেতাই খুব সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেছেন। উভয় নেতাই ভবিষ্যতে একটি বিশেষ দ্বিপfক্ষীক সম্পর্ক স্থাপনের ওপর জোর দিয়েছেন।”
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা ছিল ‘গঠনমূলক, আন্তরিক এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ’।
তিনি জানান, নির্বাচনে বিজয়ের জন্য তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট; সেই সঙ্গে তাকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন।
রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ
দিনের দুটি বৈঠক রোহিঙ্গা সংকটকেন্দ্রিক ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।
ইউএনএইচসিআর এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
মাহদী আমিন বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে পরবর্তী দিন একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথাও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করবে।
পরে এক প্রশ্নের উত্তরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান বলেন, “আমরা চাই না রিফিউজি সিচুয়েশনটা ভুলে যাওয়া হোক। বাংলাদেশে এখন যে ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা আছে, সেটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় রিফিউজি কেসলোড।
“প্রধানমন্ত্রী এখানে এসেছেন, উনি এখানে ইউএন-এর সব কাউন্টারপার্টস এবং বাইল্যাটারাল কাউন্টারপার্টদের সবার কাছ থেকেই সাহায্য চেয়েছেন এই সমস্যার সমাধান করার জন্য। আমাদের ক্যাম্পে যারা আছেন, তাদের জন্য আমাদের আরও ফান্ডস দরকার, সেই ফান্ডসগুলো যেন আসে এবং আমরা সবাইকে উৎসাহিত করছি আমাদেরকে একটি সমাধান খুঁজতে সাহায্য করার জন্য যাতে রিফিউজিরা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারে।”
ভুটান, মালদ্বীপ ও হাইতির সঙ্গে বৈঠক
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রথম দিনে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ১২টি নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে ১০টিতে তিনি সশরীরে অংশ নেন। দিনের শুরুতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে আয়োজিত প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশ নেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান। এরপর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন।
এদিন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান। মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) হাই কমিশনারের সঙ্গেও তার বৈঠক হয়।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায় বলে জানান হুমায়ুন কবির। সার্ক কাঠামোর আওতায় সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।
মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে বলে মাহদী আমিন জানান।
ঢাকায় কার্যালয় খোলার ‘আগ্রহ’ মেটার
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার সঙ্গে বৈঠকে ঢাকায় তাদের একটি কার্যালয় বা ফোকাল পয়েন্ট স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে মেটার কার্যক্রম, সাইবার নিরাপত্তা, ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল হয়রানি কমাতে বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে মেটা কীভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, ঢাকায় কার্যালয় খোলার বিষয়টি মেটা পর্যালোচনা করবে।
Posted ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর