বিশেষ সংবাদদাতা
প্রিন্ট
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ১:২০ অপরাহ্ণ
নিউইয়র্কে ফরেন প্রেস সেন্টারে মার্কিন উপ-সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানী মরিসনের সাথে সাংবাদিকরা। ছবি-বাংলা গেজেট।
বিশেষ সংবাদদাতা
নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে Ôএকটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ এবং সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতিÕ শীর্ষক এক Ôঅন-দ্য রেকর্ড ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংÕ ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এই ব্রিফিংয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, বাংলা গেজেটের এ সংবাদদাতা ছাড়াও খবর ডটকমসহ বাংলাদেশী আরো দু’জন এবং ভারতীয়, নেপালি ও শ্রীলংকার সাংবাদিকরা ছিলেন।
এ সময় জাতিসংঘ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অথবা তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাতের সম্ভাবনা আছে কিনা, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং তার বিরুদ্ধে দেয়া রায়কে চ্যালেঞ্জের সুযোগ দেয়া হবে কিনা ইত্যাদি প্রাধান্য পায়। এছাড়া, একইসাথে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক বজায় রাখার ফলাফল কী হতে পারে-এমন প্রশ্নও ছিল। দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে কর্মরত এই ঝানু ক’টনীতিক ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান গতি-প্রকৃতি আলোকে সকল প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন সুনিপূণভাবে।
প্রশ্ন : চব্বিশের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান নিয়েছেন। এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁর অনুপস্থিতিতে ঢাকার একটি আদালত তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের রায় দিয়েছেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। কিন্তু তার আগে শেখ হাসিনা নিজের নিরাপত্তা চেয়েছেন এবং তার অনুপস্থিতিতে চলা বিচার চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও চেয়েছেন। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী।
উত্তর : এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। আমরা অনুধাবন করতে পারছি যে, বিষয়টি ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যেকার সম্পর্ক বৈরী করার অন্যতম একটি বড় কারণ। তাই আমরা আশা করছি, তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে। তবে হাসিনার সাথে কী ধরনের আচরণ হওয়া উচিত তা আমরা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে ভাবিনি।
প্রশ্ন : গতমাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ টিমের এক প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছে যে, বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপ-মহাদেশের কয়েকটি দেশের ভেতরে আল-ক্বায়েদা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোপন সন্ত্রাসী সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। সে প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এখোন পর্যন্ত বাংলাদেশ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান কি?
উত্তর : ঐ প্রতিবেদন সম্পর্কে আমার বিস্তারিত জানা নেই। তবে আমি এটা বলতে চাই যে, আল ক্বায়েদা হচ্ছে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। এবং আমরা সকল দেশের সাথে একযোগে কাজ করতে চাই সন্ত্রাস দমনে গৃহিত পদক্ষেপ বাস্তবায়িত করতে। তবে আবারো বলছি যে ঐ প্রতিবেদন সম্পর্কে আমি বিস্তারিত কিছুই জানি না। তাই ঐ ব্যাপারে কোন মতামত দিতে চাই না।
প্রশ্ন : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়ে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরার অনুমতিসহ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহগণে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আছে কি?
উত্তর : বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে চলমান আলোচনা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। তবে আমি এটা বলতে চাই যে, বাংলাদেশের সাথে আমাদের বিদ্যমান সম্পর্ক, বিএনপির সাথে আমাদের সম্পর্ক খুব, খুবই চমৎকার অবস্থায়। আমরা নির্বাচিত সরকারের সাথে কাজ অব্যাহত রাখতে চাই। এবং সেটিকেই আমরা সবসময় ফোকাসে রাখি। বাংলাদেশ আরো শক্তিশালী ও আরো নিরাপদ করার লক্ষ্যে যে কাজ চলছে তাকে এগিয়ে নিতে আমরা পাশে রয়েছি। বাংলাদেশকে আরো সমৃদ্ধি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোন কার্পণ্য নেই। তাই আমি ভাবছি যে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনায় আমাদের কিছু বলা সমীচিন নয়। যদিও আমাদের মধ্যেকার সম্পর্ক এখোন খুবই মধুর।
প্রশ্ন : জানতে চেয়েছিলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ব্যাপারটি।
উত্তর : সেটি বাংলাদেশ সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
প্রশ্ন : যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং চীনের সাথে বাংলাদেশ সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তিন বৃহৎ শক্তির মধ্যে যে কোন একটিকে বেছে না নিলে কীভাবে সকলের সাথে ক’টনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব? এটাকে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নিচ্ছে?
উত্তর : জী, জী, বাংলাদেশ হচ্ছে বিশ্বের একটি জটিল অংশে অবস্থিত। এবং আপনার পয়েন্ট হচ্ছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বড় প্রতিবেশী দেশের নিকটে অবস্থিত। আমরা সবসময় উৎসাহিত করি দেশসমূহকে তাদের পছন্দের মধ্যে অবস্থান করতে। শক্তি প্রয়োগ করি না পছন্দের বিরুদ্ধে যেতে। তবে, সেখানে কিছু বিষয় থাকে, যখোন আমরা অনুভব করি যে তাদের পছন্দে হিসাব থাকার প্রয়োজন আছে। আর তা হচ্ছে জটিল অবকাঠামোগত অবস্থা। টেলিকমের মত। এটা হচ্ছে খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয় এবং তাদের প্রতি আমাদের বার্তা হচ্ছে আমরা তোমাদের সার্বভৌমত্বকে সুসংহত রাখতে সহায়তা দিতে চাই। আমরা তোমাদের সিস্টেমকে নিরাপদ রাখতে সহযোগিতা দিতে চাই। অর্থাৎ আমরা বুঝাচ্ছি যে কিছু দেশ তেমন কিছু তৎপরতায় লিপ্ত। আমরা তা প্রতিহত করতে চাই। এবং আমরা বিকল্প কিছু উপস্থাপনে আগ্রহী । আমরা বলছি না যে, আপনাকে এটি বা সেটির মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। আমরা বরং এসব দেশের জন্য বিকল্প দিতে চাই।
প্রশ্ন : বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি লিখেছিলেন। এবং তিনি তারেক রহমানের সাথে মিটিংয়ের আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন। সে আলোকে হোয়াইট হাউজ কি পরিকল্পনা নিচ্ছে -প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অথবা মার্কো রুবিয়ো অথবা অন্য কোন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বৈঠকের ব্যাপারে?
উত্তর : প্রেসিডেন্টের সিডিউলের ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারবো না। তবে তিনি (ট্রাম্প) পররাষ্ট্রমন্ত্রী রহমানের (খলিলুর রহমান) সাথে এ সপ্তাহে খুবই সংক্ষিপ্ত একটি সময়ের জন্যে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছিলেন। এবং প্রেসিডেন্টের সাথে ছবি তোলাও সম্ভব হয়েছে। প্রেসিডেন্টের সাথে সকল পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাক্ষাৎ অথবা ছবি উঠানোর সুযোগ ছিল না। এবং গতমাসে অথবা তারও আগে ম্যানিলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রী রুবিয়ো তাকে দেখেছেন আসিয়ান সম্মেলনে। এবং এধরনের দেখা-সাক্ষাতের ঘটনা ঘটেই চলছে। তাই আমি আপনাকে বলতে পারবো না বৈঠক/সাক্ষাতের সিডিউল আসছে কিনা। তবে আমি মনে করি সামনে আরো সুযোগ আসবে সাক্ষাতের।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিষয়ে অপর এক সংবাদদাতার প্রশ্নের জবাবে জ্যেষ্ঠ ঐ কর্মকর্তা বলেন, তার মামলা ও স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা মূলত পর্যবেক্ষণের মধ্যেই সীমিত বলে জানান তিনি।
এই ব্রিফিংয়ের আগে নিউইয়র্কে ফরেন প্রেস সেন্টারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দক্ষিণ এবং সেন্ট্রাল এশিয়া সম্পর্কিত উপ-সহকারি মন্ত্রী বিথানী মরিসন দক্ষিণ এশিয়ায় বিরাজমান পরিস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি আলোকে বক্তব্য দেন। এরপর তিনি সাংবাদিকগণের সাথে একটি ফটো সেশনেও মিলিত হন।
Posted ১:১৯ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর