অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ৪:২১ অপরাহ্ণ
![]()
নিজস্ব প্রতিনিধি
৩৪ বছর পর স্বজনের কাছে ফিরছেন যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকন (৫৮)। তবে সশরীরে নয়, কফিনে বন্দি হয়ে। মাগুরা জেলা সদরের বগিয়া ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামের সন্তান খোকন আমেরিকার রঙ্গিন স্বপ্নে ভাসতে ভাসতে ১৯৯২ সালে নিউইয়র্কে এসেছিলেন। কাজের মধ্যে ডুবে থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক চেতনা থেকে এক মুহূর্তের জন্যে নিজেকে দূরে রাখেননি। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক লীগের শাখা প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা খোকন নিউইয়র্ক স্টেট শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। এরপর এই সংগঠনের সভাপতির হাল ধরেন বছর ছয়েক আগে।
যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় এ সংবাদদাতাকে জানান, খোকন নিখোঁজ হয়েছিলেন ৩ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে। দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষ থেকে নিউইয়র্ক পুলিশের সাথে যোগাযোগের পর ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ৩ অক্টোবর অপরাহ্নে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে বাসে উঠার পরই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন খোকন। বাসের ড্রাইভার ৯১১ এ ফোন করলে এ্যাম্বুলেন্স-সহ পুলিশ এসে তাকে নিকটস্থ জ্যামাইকা হাসপাতালে নেয়। সেখানকার জরুরী বিভাগ খোকন বেঁচে নেই বলে উল্লেখ করার পর তার লাশ নেয়া হয় বেলভ্যু মর্গে। এরপর বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন দেওয়ান নিউইয়র্ক সিটি মেডিক্যাল এক্সামিনারের অফিস থেকে অনুমতি ক্রমে খোকনের লাশ নিয়েছেন ফিউনারেল হোমে। উল্লেখ্য, দীর্ঘ দিন চেষ্টা করেও গ্রীণকার্ড না পাওয়ায় খোকন বিয়ের পিড়িতেও বসেননি।
জুয়েল আহমেদ আরো জানান, কঠোর শ্রমে অর্জিত অর্থের সিংহভাগই দেশে মা-বাবা-ভাই-বোনের কাছে পাঠাতেন খোকন। তাই সঞ্চয় বলে কিছুই নেই। এ অবস্থায় তার লাশ দেশে পাঠানোর সমুদয় খরচ (৭৬০০ ডলার) বহন করছে বাংলাদেশ সোসাইটি। এছাড়া, মাগুরায় তার অসহায় ভাই-বোনের জন্যেও নগদ কিছু অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম-সহ শীর্ষ কর্মকর্তাগণের অনেকেই খোকনের স্বজনের জন্যে সরব রয়েছেন। এছাড়া, আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপি, যুবদল, শ্রমিক দল-সহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কম্যুনিটির চিরচেনা খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে।
খোকন বাস করতেন নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে রিচমন্ড হিলে। কাজ করতেন জ্যাকসন হাইটসে বহুল পরিচিত অবকাশ বুক কর্ণারে।
খোকনের জানাযা অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার ৯ অক্টোবর বাদ জুমআ জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায়। এরপরই রাতে আমিরাতের ফ্লাইটে খোকনের লাশবাহী কফিন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবে বলে জানান কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট ডা. মাসুদুল হাসান। ডা. হাসান আরো উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন থেকে খোকন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভোগছিলেন। কদিন আগে হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের প্রধান উপদেষ্টা আব্দুর রহিম বাদশা এ সংবাদদাতাকে জানান, খোকন ৩৪ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে এলেও গ্রীণকার্ড পাননি শত চেষ্টা করেও। এজন্যে পুরো যৌবন তার কেটেছে মহাদুশ্চিন্তায়। বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হবার কথাও ভাবতে পারেনি। অবশেষে স্বজনের কাছে ফিরতেও দান-দক্ষিনার প্রয়োজন হচ্ছে। তাঁর অকাল মৃত্যুর জন্যে অনেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী কট্টর মনোভাবকে দায়ি করছেন। স্বপ্নের ভবিষ্যত রচনার অভিপ্রায়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসে খোকনের মত লাখ লাখ বিদেশী গ্রীণকার্ড না পেয়ে মহাদুশ্চিন্তায় দিনাতিপাত করছেন। আর এমন দুশ্চিন্তার অসহায় ভিকটিম হয়ে খোকনের মত হাজারো বিদেশীর প্রাণ অকালে ঝরছে-যা ক্রমান্বয়ে আমেরিকার নীতি-নৈতিকতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কারণ, খোকনেরা অভিবাসনের মামুলি আইন লংঘন ব্যতিত, আর কোন ফৌজদারি অপরাধে কখনোই লিপ্ত ছিলেন না। অধিকন্তু নিজের মেধা ও কর্মশক্তির পুরোটাই ব্যয় করছেন যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন-কল্যাণে।
Posted ৪:১৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24