নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ১২:২০ অপরাহ্ণ
অভিযুক্ত ঘাতক।
নিজস্ব প্রতিনিধি
বাংলাদেশী মোহাম্মদ ইউসুফ রাজু(৪৪)কে গুলি করে হত্যা এবং মো. রাসেল (৩৯) নামক আরেক বাংলাদেশীকে গুলিবিদ্ধ করার মামলায় আটক জিসাস এ্যাকুষ্টা (৩১)কে ২১ সেপ্টেম্বর ব্রুকলীন সুপ্রিম কোর্টে জাস্টিস দিনীন রিভিয়েজ্জোর এজলাসে হাজির করার পর তার বিরুদ্ধে প্রথম ও দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা এবং আরেকজনকে গুলিবিদ্ধ করার অভিযোগসহ ছিনতাই, অস্ত্র বহন এবং ভীতির ১১ ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনে ৮৪২ রকোওয়ে এভিনিউতে অবস্থিত বাংলাদেশী মালিকানাধীন ‘আমেরিকান বেস্ট উইঙ্গস এ্যান্ড পিজ্জা’ রেস্টুরেন্টে ২২ আগস্ট রাত ১১টা ৫০ মিনিটে ঢুকেই ক্যাশ কাউন্টারে কর্মরত মোহাম্মদ ইউসুফের বুকে গুলি করে এবং ইউসুফের পাশেই কর্মরত মো. রাসেলের পায়ে গুলি করে। এরপর ক্যাশ কাউন্টারে নগদ যা ছিল তা নিয়ে চম্পট দেয়। মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে ব্রুকলীন ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী এরিক গঞ্জালেজ ২১ সেপ্টেম্বর এ সংবাদদাতাকে আরো জানান, অভিযুক্ত দুর্বৃত্তকে ব্রঙ্কসের একটি পার্ক থেকে ২১ আগস্ট গ্রেফতার করা হয়েছে। সে ব্রঙ্কসেরই বাসিন্দা এবং তার বিরুদ্ধে ছিনতাই ও হত্যার আরো অভিযোগ রয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী জানান, নিহত ইউসুফের স্ত্রী এবং দুটি শিশু সন্তান রয়েছে বাংলাদেশে এবং তাদের ভরন-পোষণের একমাত্র অবলম্বন ছিলেন ইউসুফ। তদন্ত কর্মকর্তারা মামলায় উল্লেখ করেছেন যে, গুলিবিদ্ধ রাজুকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে রাসেলকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগরের সন্তান ইউসুফ রাজু প্রায় তিন বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে। এ বাবদ দালালকে দিয়েছিলেন ৩০ লাখ টাকা। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। দেশে রয়েছে স্ত্রী এবং ২ সন্তানসহ ভাই-বোন, মা-বাবা। আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের অভিপ্রায়ে নিউইয়র্কে ওই রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন। আহত রাসেলের বাড়িও নোয়াখালীতেই।
মোহাম্মদ ইউসুফ রাজা
মোহাম্মদ ইউসুফের জানাযা শেষে লাশ বাংলাদেশে পাঠিয়েছে নোয়াখালী সোসাইটি। সে সময় তার দু:স্থ পরিবারের জন্যে বেশ কিছু ডলারও পাঠানো হয় বলে সোসাইটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে, নিউইয়র্ক সিটিতে কর্মরত অবস্থায় দুর্বৃত্তের গুলিতে দুই প্রবাসীর হতাহতের ঘটনার পর উদ্বিগ্ন কম্যুনিটিকে স্বস্তি প্রদানের অভিপ্রায়ে কোন ধরনের তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়নি বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষ থেকে। ৩৫ হাজার সদস্যের এই সংগঠনের নির্বাচন হবে ২৫ অক্টোবর। দুটি প্যানেল মাঠে নেমেছে। একটি প্যানেলের পক্ষ থেকেও ঐ হত্যাযজ্ঞের নিন্দা-প্রতিবাদ কিংবা শোক-সন্তপ্ত পরিবারের জন্যে সহযোগিতার হাত প্রসারের তথ্যও জানা যায়নি। এ নিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকর্তাগণের বিরুদ্ধে সমালোচনা হচ্ছে পথে-প্রান্তরে।
Posted ১২:১৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর