Category: প্রবাস

  • নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    অজিৎ ভৌমিক/আনিসুর রহমান

    জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। সফরসঙ্গিসহ তারেক রহমানকে বহনকারি টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট-টি জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণের বেশ কিছুসময় আগেই বাইরে পরস্পর-বিরোধী কর্মসূচিতে থাকা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কর্মীগণকে সরে যেতে হয়। কারণ, বিএনপির স্বাগত সমাবেশ এবং আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ-সমাবেশের অনুমতি ছিল বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু ফ্লাইট অবতরণ করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টারও পর। বিকেল ৩টা থেকেই উভয় পক্ষের শতশত নেতা-কর্মী নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে ৮ নম্বর টার্মিনালের বাইরে ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-নিউইয়র্কে স্বাগত-শুভেচ্ছা’ এবং ‘গো ব্যাক তারেক’ লেখা ব্যানার হাতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা অবস্থান করেন। গোটা এলাকা প্রকম্পিত করে স্লোগানও ধরেন তারা।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে জেএফকে এয়ারপোর্টে বিএনপি নেতা-কর্মীরা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    তবে পারমিট অনুযায়ী সময় ফুরিয়ে যাওয়ায় সকলকেই ঐ স্থান ত্যাগে বাধ্য করে এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা কর্মীরা। এ সময় তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন হাতে নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। মাঝেমধ্যে স্লোগান ধরেন-‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দের মধ্যে ছিলেন আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান, গিয়াস আহমেদ, মিজানুর রহমান মিল্টন ভ’ইয়া, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা আতিকুর রহমান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিমউদ্দিন ভিপি এবং সেক্রেটারি সাঈদুর রহমান সাঈদ, বদরুল হক আজাদ, যুবদলের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু সাঈদ আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী প্রমুখ।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ক্ষোভ জানাতে জেএফকে এয়ারপোর্টে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    অপরদিকে, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের বিশাল ব্যানার ও প্লেকার্ড হাতে শতশত নেতা-কর্মী ‘যেখানে তারেক-সেখানেই প্রতিরোধ’ স্লোগানে মুখরিত ছিলেন। তারা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবিও বহন করেন। নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন ডা. মাসুদুল হাসান, সামাদ আজাদ, ইমদাদ চৌধুরী, রফিকুর রহমান রফিক, নুরুল আবসার সেন্টু, মিসবাহ আহমেদ, ফরিদ আলম, সেবুল মিয়া, মিজানুর রহমান চৌধুরী, হৃদয় মিয়া প্রমুখ।

    গ্র্যান্ড হায়াত হোটেল লবিতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান ক’টনীতিকরা। ছবি-পিএমও।

    এদিকে, সাড়ে ৬টার পর এক নম্বর টার্মিনালের ভিআইপি গেটে তারেক রহমানকে  স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

    বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটরশোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

    জেএফকে এয়ারপোর্টে যুবলীগ-আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপি নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলের সামনে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন হাতে মিছিল এবং স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। সাথে ছিলেন সহধর্মীনি ডা. জোবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিএনপির চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টামন্ডলীর অন্যতম সদস্য গোলাম ফারুক শাহীন গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের করিডোরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পাশে ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম শিপলু। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের কর্মসূচিতে যোগদানকালে  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলেই অবস্থান করবেন।

    হোটেল লবিতে কোলাকুলি তারেক রহমানের সাথে গোলাম ফারুক শাহীন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ছাড়াও সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

  • শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের আবির্ভাব দিবস স্মরণে কুইন্সে মহাকালি মন্দিরে পূজা-অর্চনা

     

    শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের আবির্ভাব দিবস স্মরণে মহাকালি মন্দিরে প্রার্থনা-সঙ্গীত। ছবি-বাংলা গেজেট।

    অজিৎ ভৌমিক

    এবারই প্রথম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ১৩৯তম শুভ আবির্ভাব দিবস স্মরণে কুইন্সে মহাকালি মন্দিরে ‘তালনবমী মহোৎসব’ পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হলো ২০ সেপ্টেম্বর রোববার । সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে বিপুলসংখ্যক ভক্ত-অনুরক্তের সমাগম ঘটে। সমগ্র অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন মহাকালি মন্দিরের সভাপতি বিজয়কৃষ্ণ ভৌমিক। এবং অনুষ্ঠানের অন্যতম পর্ব মাতৃসম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন স্বস্তয়নী রাত্রি সাহা। সদগ্রন্থাদি থেকে পাঠ করেন হাসি রানী চাকি। নারী নীতির আলোকপাত করেন শিল্পী পুরকায়স্থ। আলোচনায় আরো অংশ নেন মনিকা ঘোষ। সমবেত কন্ঠে প্রার্থনা সঙ্গীতে নেতৃত্ব দেন চন্দনা ভট্টাচার্য, চন্দনা দাস, অনামিকা মজুমদার, মনিকা দাস, মিঠুয়া রায় প্রমুখ। পুরো অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন প্রেমা সিংহ। শ্রীমদ্ভগবত গীতা পাঠ করেন শিলা বর্মণ। পৌরহিত্য করেন সহ-প্রতি ঋত্বিক বিজয় কৃষ্ণ ভৌমিক। অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখ করার মত।

    শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের আবির্ভাব দিবস স্মরণে মহাকালি মন্দিরে প্রার্থনা সঙ্গীতে নতুন প্রজন্ম । ছবি-বাংলা গেজেট।

    সন্ধ্যায় সমবেত প্রার্থনায় অংশ নেন সকল নারীরা। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন ডা. নিহার সরকার, রাজিব আচার্য, মনোজ কুমার বৈদ্য, দিবাকর রায়, অপূর্ব বর্মন, বিশ্বনাথ মিত্র, উত্তম চৌধুরী, টুম্পা চৌধুরী, প্রদীপ ঘোষ, শংকর বিশ্বাস, রাজিব দাস, অলক দাস, হরিবন্ধু নাথ প্রমুখ।

  • শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের জন্মদিন স্মরণে মাসিক ভাদ্র পরিক্রমা

    শুভ আবির্ভাব দিবসে প্রার্থনা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    পরম প্রেমময় শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ১৩৯তম শুভ আবির্ভাব দিবস স্মরণে মাসিক ভাদ্র পরিক্রমার অংশ হিসেবে ‘২৯তম দিবসে গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১০টা থেকে অপরাহ্ন ২টা পর্যন্ত প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে (৮৯-২৬ ১৮৭ প্লেস, হলিস)। এতে বিপুলসংখ্যক ভক্ত-অনুরক্ত অংশগ্রহণ করেন। পৌরহিত্য করেন সহ-প্রতি ঋত্বিক দিবাকর রায় এবং বিজয়কৃষ্ণ ভৌমিক। এ সময় ধর্মপ্রাণ হিন্দুরা পূজা-অর্চনার পাশাপাশি প্রার্থনা সঙ্গীতেও অংশ নিয়েছিলেন। পুরো আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন  স্বস্তয়নী অজিৎ ভৌমিক এবং তার সহধর্মীনি রাত্রি সাহা।

    শুভ আবির্ভাব দিবসে প্রার্থনা-সঙ্গীত। ছবি-বাংলা গেজেট।

    আসছে ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জ্যাকসন হাইটস্থ ওঁমশক্তি মন্দিরে ‘শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের তালনবমী উৎসবে সকলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সৎসঙ্গ ইউএসএর প্রচার সম্পাদক স্বস্তয়নী অজিৎ ভৌমিক।

  • কুলিয়ারচর সোসাইটির বনভোজন বৈরী আবহাওয়াতেও থামেনি

    বনভোজনে ছোট্টমনিরা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    ব্রুকলীন প্রতিনিধি

     

    বৈরী প্রকৃতিও রুখতে পারেনি কুলিয়ারচর ইসলামিক সোসাইটির বনভোজন। দিনভর বৃষ্টি হার মেনেছে কুলিয়ারচরের প্রবাসীগণের অদম্য বাসনার কাছে। প্রসপেক্ট পার্কের মনোরম পরিবেশের পরিবর্তে সেই বনভোজন অনুষ্ঠিত হয় সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফজলুল হক ও ডা. সায়েরা হক দম্পতির বিশাল বাসভবনে।

    ২০ সেপ্টেম্বর  রোববার নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনে ফ্লাটবুশে ( ১৮৪ রাগবি রোড)অভিজাতশ্রেণীর মানুষের এলাকা (ল্যান্ডমার্ক ১৬ রুম ভিক্টরিয়ান সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম)টির বসতবাড়িকে নিউইয়র্ক সিটি ল্যান্ডমার্ক সংরক্ষণ কমিশন দ্বারা সুরক্ষিত করা হয়েছে। অর্থাৎ এই ভবনটির নির্মাণ শৈলী-অনন্য স্থাপত্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ঐতিহাসিক একটি সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে-যা অটুট রাখতে হবে অনাদিকাল পর্যন্ত। অর্থাৎ ভবনটি যেভাবে যে রং-এ তৈরী করা হয়েছে সেভাবেই রাখতে হবে। সংস্কারের নামে কোন ধরনের মডিফিকেশন করার অনুমতি নেই। অর্থাৎ ইতিহাসের সাক্ষী বাড়িটিতেই শিশু-কিশোর-তরুণ-তরুণী থেকে সকল বয়েসী মানুষের উচ্ছ্বল উপস্থিতিতে ভিন্ন এক আমেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে বনভোজন উপলক্ষে গৃহিত সকল কর্মসূচি। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফজলুল হক ও ডা. সায়েরা হক দম্পতির নিকটাত্মীয়ের সংখ্যা শতাধিক। তারা উপস্থিত থাকলেই যে কোন আয়োজন পরিপূর্ণতা পায়।

    বনভোজনের বিশেষ অতিথিগণের সাথে হোস্ট সংগঠনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    এই বনভোজনে বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও খ্যাতনামা নির্মাণ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের মিয়া এবং সন্দ্বীপ পৌরসভা কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাফরউল্লাহ।

    প্রাণের আমেজ আর হৃদয়ের উষ্ণতায় অনুষ্ঠিত এ বনভোজনের আহবায়ক সামসুল হুদা, সদস্য সচিব আজহারুল হক এবং প্রধান সমন্বয়কারি মজিবর রহমান পুরো আয়োজনকে সাফল্যমন্ডিত করতে সক্ষম হয়েছেন নাজিম আহমেদ, সাব্বির আহমেদ, তারিকুল হক, এ মাসুম, খালেকুজ্জামান, মুবিনুর রহমান, সালাহউদ্দিন, নাঈম, আল আমিন ও মাসুদের সার্বিক সহযোগিতায়। বনভোজনকে ষোলকলায় পরিপূর্ণ করতে মনিটরিংয়ে ছিলেন ‘কুলিয়ারচর ইসলামিক সোসাইটি’র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফজলুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসাইন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই বনভোজনের গ্র্যান্ড স্পন্সর ছিলেন কম্যুনিটির সুচিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ডা. সায়েরা হক।

    আপ্যায়নে ব্যস্ত ডা. সায়েরা হক। ছবি-বাংলা গেজেট।

    বনভোজনে আগত সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান হোস্ট সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এটি ছিল দ্বাদশ বার্ষিক বনভোজন এবং এই প্রথম বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রসপেক্ট পার্কের পরিবর্তে ঐতিহাসিক একটি বাসভবনে অনুষ্ঠিত হলো।

  • নিউইয়র্কে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘাত থামালো দাঙ্গা পুলিশ

    আওয়ামী লীগের কর্মীদের সরিয়ে দিতে নিউইয়র্ক পুলিশের তৎপরতা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    নিজস্ব প্রতিনিধি/আনিসুর রহমান

    অর্ধ শতাধিক দাঙ্গা পুলিশের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের একটি সংঘাত থেকে রক্ষা পেলেন নিউইয়র্কে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। জাতিসংঘে ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের জন্যে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি হিসেবে ২০ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হয় জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায়। একইসময়ে কাছাকাছি দূরত্বে আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী জড়ো হয় ‘যেখানে তারেক-সেখানেই প্রতিরোধ’ স্লোগানে মেতে উঠেন।

    বিএনপির কর্মীদের সরিয়ে দিতে নিউইয়র্ক পুলিশের তৎপরতা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    পরস্পর-বিরোধী স্লোগান এক পর্যায়ে ঠেলাঠেলি-ধাক্কা-ধাক্কি থেকে অকথ্য গালিগালাজে পরিণত হয়। আওয়ামী লীগের দিকে তেড়ে যান বিএনপির লোকজন। এরইমধ্যে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা-স্বাগত লেখা কয়েকটি ব্যানার ছিড়ে ফেলেন আওয়ামী লীগের কর্মীরা। এভাবে রনক্ষেত্রে পরিণত হয় গোটা এলাকা।

    তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির লাগানো ব্যানার ছিড়ে ফেলে আওয়ামী লীগের ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    উভয়পক্ষের শ’তিনেক নেতা-কর্মীর মধ্যেকার তুমুল ধাক্কা-ধাক্কি আর গালাগালির সংবাদ জেনে টহল পুলিশের বেশ কয়েকটি দল অকুস্থলে হাজির হয় এবং তারা উভয়পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে মাঝখানে অবস্থান নেন। তবুও কোন পক্ষই বিরত না হওয়ায় শক্তি প্রয়োগে বাধ্য হন পুলিশ অফিসারেরা। এ সময় ভ’য়া ভ’য়া স্লোগানে মুখরিত হয় গোটা এলাকা। থমকে দাঁড়ায় যানবাহন। পথচারিরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেন এবং প্রবাসীদের লংকাকান্ড অবলোকন করেন।

    ২২ সেপ্টেম্বর সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৬টায়  তারেক রহমানকে বহনকারি ফ্লাইট জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণের কথা। ৩ দিনের সফরকালে ‘যেখানে তারেক-সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেএফকে এয়ারপোর্টে আওয়ামী লীগের হাজার খানেক নেতা-কর্মীর সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। এবং এই তথ্য জানিয়ে এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিও সংগ্রহ করা হয়েছে বলে আওয়ামী লীগ নেতা ইমদাদ চৌধুরী জানান।

    আওয়ামী লীগের প্রতি তেড়ে যাওয়া বিএনপির একজনকে থামায় পুলিশ অফিসার। ছবি-বাংলা গেজেট।

    অপরদিকে, বিএনপি নেতা গোলাম ফারুক শাহীন জানান যে, জেএফকে এয়ারপোর্টে বিএনপির শতশত নেতা-কর্মী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবেন এবং এজন্যে কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নেয়া হয়েছে। এরফলে পরস্পর বিরোধী কর্মসূচির জন্যে পুলিশ বেস্টনী তৈরী করবে এবং উভয়পক্ষকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে বাধ্য করা হবে। এয়ারপোর্ট নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে তারেক রহমানের আগমণ এবং ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার উদ্দেশ্যে ফিরে যাবার সময়ে জেএফকে এয়ারপোর্টে বিশেষ ব্যবস্থা অবলম্বনের তথ্য জানা গেছে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের  সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের জন্যে আসা সকল দেশের রাষ্ট্র/সরকার প্রধানের নিরাপত্তার ব্যবস্থা অবলম্বনের জন্যে জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে। গতবছর মুহম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গিগণের কেউ কেউ আওয়ামী লীগের ক্ষোভের মধ্যে পড়ে নাজেহাল হবার পরিপ্রেক্ষিতে এবার অতিরিক্ত নিরাপত্তা অবলম্বন করা হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।

  • নিউইয়র্কের কমিউনিটি মিডিয়া দপ্তরের নেতৃত্বে মাজিন সিদাহমেদ

     

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানি তাঁর কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক( অ্যাথনিক ও  কমিউনিটি মিডিয়া) হিসেবে সাংবাদিক ও মিডিয়া উদ্যোক্তা মাজিন সিদাহমেদকে নিয়োগ দিয়েছেন। প্রায় ১৫ বছরের সাংবাদিকতা ও কমিউনিটি মিডিয়ায় কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিদাহমেদ নতুন দায়িত্বে সিটির বিভিন্ন সংস্থার পেইড মিডিয়া, বিজ্ঞাপন ও বিপণন কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন।

    নিয়োগের মূল লক্ষ্য হলো ভাষা, জাতিগত পরিচয় বা কমিউনিটির ভিন্নতা যেন কোনো নিউইয়র্কারের সিটি সরকারের সেবা ও কর্মসূচি সম্পর্কে জানার পথে বাধা না হয়। বিশেষ করে অভিবাসী, বহুভাষিক ও কর্মজীবী জনগোষ্ঠীর কাছে তাদের পরিচিত সংবাদমাধ্যম ও যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরকারি তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    মেয়রের জাতিগত ও কমিউনিটি গণমাধ্যম দপ্তর নিউইয়র্কের পাঁচ বরোর এথনিক ও কমিউনিটি সংবাদমাধ্যম, কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে সিটির বিভিন্ন সেবা ও কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য প্রচার করে। ২০২১ সালের লোকাল ল’ ৮৩-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত দপ্তরটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মেয়রাল অফিস। আইন অনুযায়ী, মেয়রের অধীন প্রতিটি সিটি এজেন্সিকে তাদের মোট বিজ্ঞাপন ব্যয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ এথনিক ও কমিউনিটি মিডিয়ায় দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হয়।

    মেয়র মামদানি বলেন, সরকারি সেবা তখনই অর্থবহ হয়, যখন সেই সেবার তথ্য প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছে। তাঁর মতে, যাদের সরকারি তথ্য ও সেবা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, অনেক ক্ষেত্রেই তারাই সেই তথ্য থেকে সবচেয়ে বেশি বিচ্ছিন্ন থাকেন। সিদাহমেদ অভিবাসী নিউইয়র্কারদের জন্য তাদের ভাষা ও ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্মে আস্থাভিত্তিক সাংবাদিকতা গড়ে তুলেছেন উল্লেখ করে মেয়র বলেন, মানুষের কাছে কীভাবে পৌঁছানো হচ্ছে, সেটিও বার্তার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

    সিদাহমেদ বলেন, অভিবাসী নিউইয়র্কারদের সঙ্গে প্রয়োজনীয়, কখনো জীবনরক্ষাকারী সেবা ও তথ্যের সংযোগ তৈরি করার লক্ষ্যেই তিনি ডকুমেন্টেড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এখন পুরো শহরজুড়ে একই কাজ বিস্তৃত করার পাশাপাশি নিউইয়র্কের বৈচিত্র্যময় এথনিক ও কমিউনিটি সংবাদমাধ্যমকে শক্তিশালী করতে কাজ করতে চান তিনি।

    উল্লেখ্য, সিদাহমেদের নিয়োগ এমন একটি দপ্তরে, যার দায়িত্ব সরাসরি নিউইয়র্কের ভাষাগত ও জাতিগত বৈচিত্র্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। নতুন দায়িত্বে তিনি একদিকে সিটি সরকারের তথ্য ও সেবাগুলো বিভিন্ন ভাষাভাষী ও জাতিগত সম্প্রদায়ের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবেন। অন্যদিকে এথনিক ও কমিউনিটি মিডিয়ার সঙ্গে সরকারি বিজ্ঞাপন, তথ্যপ্রবাহ ও যোগাযোগের সম্পর্ক আরও জোরদার করাও তাঁর দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।

     

  • সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অশনি সংকেত

    সেমিনারে ঐক্য পরিষদের শীর্ষ নেতারা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    দীপক কুমার আচার্য /অজিৎ ভৌমিক

    বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, আমেরিকার উদ্যোগে নিউইয়র্কে ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় `নিপীড়নের কোন জয় নেই : বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনে প্রকারান্তরে সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং জাতির ক্ষতি করছে’ (  “Persecution Has No Winners: How Minority Oppression in Bangladesh Harms the Majority and the Nation” )শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।  সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চলা দীর্ঘমেয়াদী নিপীড়ন, নির্যাতন এবং এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেমিনারের প্যানেলিস্টরা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলি তুলে ধরে বলেন যে, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সমস্যা নয়, বরংএটি সমগ্র জাতির নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য এক মারাত্মক অশনি সংকেত।

    প্রিয়াঙ্কা পাল এবং স্বপন কে দাসের যৌথ সঞ্চালনায় এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাইনরিটি গবেষক মৃন্ময় সমদ্দার এবং ঐক্য পরিষদের বোর্ড অব গভর্নর্স এর চেয়ারপারসন অ্যাটর্নি অশোক কর্মকার। যৌথভাবে প্রস্তুতকৃত মূল প্রবন্ধে বলা হয় যে, বাংলাদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের—বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের—ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা নিপীড়নকে কেবল একটি সাম্প্রদায়িক সমস্যা হিসেবে দেখলে এর গুরুতর জাতীয় প্রভাব থেকে যায়। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা অস্বীকার করা, ঘটনাগুলোকে খাটো করে দেখা এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থতা রাষ্ট্রের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক নাগরিকত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে দুর্বল করে তোলে।

    তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের ৫৫ বছরের গতি-প্রকৃতি নিয়ে গবেষণালব্ধ প্রবন্ধটিতে ১৯৭২ সালের সাংবিধানিক অঙ্গীকার থেকে শুরু করে শত্রু ও অর্পিত সম্পত্তি ব্যবস্থা, পঞ্চম ও অষ্টম সংশোধনী, বাবরি মসজিদ ধ্বংস-পরবর্তী হামলা, ২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, ২০১৩ সালের নির্যাতন, ২০১৬ সালের নাসির নগর হামলা, ২০২১ সালের কুমিল্লা কেন্দ্রিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক রূপান্তর-পরবর্তী ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী ঘটনাগুলোকে একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    গবেষণায় আরও দেখানো হয়েছে যে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি সহিংসতাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারযোগ্য এবং আইনগত ভাবে সহনীয় করে তোলে। এই সামাজিক অবক্ষয় ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি এক সময় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী, আহমদিয়া, সুফি, বাউল ও ফকীর সম্প্রদায়ের গণ্ডি পেরিয়ে নারী, সাংবাদিক, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী এবং সাধারণ নাগরিকদেরও আক্রান্ত করতে পারে, যার স্পষ্ট নমুনা ইতোমধ্যে দেশবাসী দেখেছে। এই পুরো বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্তরেও ব্যাপকভাবে প্রকাশিত ও আলোচিত হয়েছে। সে কারণে, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল মানবাধিকার রক্ষার একটি খণ্ডিত বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তার একটি অত্যন্ত মৌলিক পূর্বশর্ত।

    সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কান্তি দাস। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন যে, বর্তমান বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অব্যাহতভাবে নির্যাতন চলছে এবং প্রশাসন বা সরকার তাদের সুরক্ষায় কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

    সেমিনারে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি অর্ঘ সরকার এবং উর্বশী সান্যাল। ছবি-বাংলা গেজেট।

    সেমিনারের বিষয়বস্তু আলোকে বক্তব্য রাখেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন, অধ্যাপক রাজেশ সম্পাত, মানবিধার আইনজীবি এডভোকেট মনজিল মোরশেদ, এর্টনী অশোক কুমার কর্মকার প্রমুখ ।

    সেমিনারের বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে অন্যতম ভিকটিম হিসেবে দেশান্তরি হওয়া লেখক তসলিমা নাসরিন বলেন, বাংলাদেশি হিন্দুরা আজ চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন এবং ইসলামিক ফান্ডামেন্টালিস্টদের ক্রমাগত হামলা ও নিপীড়নের মুখে তারা তাদের প্রাচীন ভিটেমাটি এবং জন্মভূমি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। তারা আজ বিভিন্ন দেশে শরণার্থী বা পরবাসীর জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

    আলোচনায় অংশগ্রহণকারিরা আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে এবং এর ফলে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ দিনদিন বেড়েই চলেছে। কিছুক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যেমন বিবিসি বা আলজাজিরার সংবাদ প্রচারের ধরন নিয়েও সেমিনারে আলোচনা করা হয়। এছাড়া উর্বশী সান্যাল সংখ্যালঘুদের ওপর জাতিগত নিধন ও সহিংসতার বিভিন্ন দিক অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরেন।

    সেমিনারে উপস্থাপিত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত এবং পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে গত কয়েক দশক ধরে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর হার ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, বিভিন্ন ঐতিহাসিক জনমিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে দেখানো হয় যে, বিগত দশকগুলোতে দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনুপাত উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে, যা দেশত্যাগের প্রবণতাকেই স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।

    সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদ, আমেরিকার দুই সভাপতি নয়ন বড়ুয়া ও গিতা চক্রবর্তী।

    সভাপতির বক্তব্যে তারা বলেন যে, দেশের এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে এবং রাষ্ট্রকে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

    সেমিনারের শেষ পর্যায়ে উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ গ্রহণকারীরা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালো ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

    ঐক্য পরিষদের এ সেমিনারে নতুন প্রজন্মের পক্ষে বাংলাদেশে বিরাজমান বর্বরতা আলোকপাত করেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার উর্বশী সান্যাল, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত অর্ঘ সরকার এবং দশম গ্রেডের ছাত্র নিরত্যিয়া ময়ুখ। প্রবাস প্রজন্মের কন্ঠে গভীর উদ্বেগ প্রকাশিত হয়-যা উপস্থিত সকলকে বিচলিত করেছে। আয়োজক সংগঠনের বোর্ড অব গভর্ণরস’র চেয়ারপারসন অশোক কে কর্মকার এ প্রসঙ্গে এ সংবাদদাতার কাছে অভিব্যক্তি প্রকাশকালে বলেন, তিন দশকের অধিক সময় যাবত ঐক্য পরিষদের সাথে রয়েছি। আগে কখনোই নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার ঘাটতি আজ পূরণ হলো এবং এরমধ্যদিয়েই বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান বর্বরতা-হিংস্রতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খুব সহজে উপনীত হবে।

    সেমিনারের প্রয়োজনীয়তা আলোকে আরো বক্তব্য দেন ঐক্য পরিষদের বোর্ড অব গভর্ণর্স এর সদস্য পলাশ বড়ুয়া, ট্রেজারার বরুন পাল এবং অর্থনীতিবিদ চন্দন সরকার।

  • তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরকে সাফল্যমন্ডিত করতে প্রবাসীদের সহযোগিতা কামনা

     

    আনিসুর রহমান

    জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার অপরাহ্নে নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পর ২৫ সেপ্টেম্বর রাতের ফ্লাইটে তারেক রহমানের দেশের উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগের কথা। জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণের সময় ব্যাপক অভ্যর্ত্থনা প্রদান এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য উপস্থাপনের সময় বাইরে ‘শান্তি ও স্বাগত সমাবেশ’কে সাফল্যমন্ডিত করতে দেশপ্রেমিক সকল প্রবাসীর অকুন্ঠ সমর্থন কামনা করে ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন ও উদ্ভ’ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্ল, গিয়াস আহমেদ, মিজানুর রহমান ভুঁইয়া মিল্টন, গোলাম ফারুক শাহীন, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু সাঈদ আহমেদ।

    এ সময় জানানো হয় যে, ২৪ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। বলা হয়, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কয়েকটি দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রথমত, বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাই, এটি বাংলাদেশীদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীদের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি আরও বলেছে, বিদেশে অবস্থান করলেও তারা যেন দেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর প্রচারে বিভ্রান্ত না হন। দলটি প্রবাসীদের দেশের পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের উন্নয়নের অংশীদার এবং তাদের বিনিয়োগ ও দক্ষতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো প্রয়োজন।

    সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন বিএনপি নেতা শরাফত হোসেন বাবু, কামাল পাশা বাবুল, আনোয়ার হোসেন, নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, আনোয়ারুল ইসলাম, আক্তার হোসেন বাদল, কাজী আজম, ফিরোজ আলম, সবুর খান, মোশারফ হোসেন সবুজ, গিয়াস উদ্দিন, শাহ আলম, সাইদুল হক, জহিরুল ইসলাম মোল্লা, জসিম ভুইয়া, সৈয়দা মাহমুদা শিরিন, আলহাজ্ব বাবরউদ্দিন,  শফিকুর রহমান দুলাল, সৈয়দ এ আর ফারুক, বাসেত রহমান, ডা. আব্দুস সবুর, শাহজাহান শেখ, নুর মোহাম্মদ, রফিকুল ইসলাম, ফারুক হোসেন মজুমদার, রফিকুল ইসলাম ডালিম, সৈয়দ মোরশেদুল হাসান রেজা, মো. মহসিন, মাজহারুল ইসলাম জনি, গোলাম হায়দার মুকুট, মো. মাসুদ রানা, জাকির হাওলাদার, মাকসুদ চৌধুরী, সাহেল খান। স্টেট বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন অলি উল্লাহ আতিকুর রহমান, জসিম উদ্দিন ভিপি, সাঈদুর রহমান সাঈদ, সিনিয়র সহ-সম্পাদক আরিফুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রউসউদ্দিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবীর, সাংবাদিক আনিসুর রহমান, এ আর মাহবুবুল হক, আমিন উদ্দিন চৌধুরী, বদরুল হক আযাদ, আশরাফ আলী, জিয়াউর রহমান মিলন, দেওয়ান কাউসার প্রমুখ।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৪০ বছর পর আবারও একজন বাংলাদেশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ছিলেন। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরার একটি সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

    এদিকে, তারেক রহমানের আগমণের সময় থেকে প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত সকল কর্মসূচি প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ। সেদিকে ইঙ্গিত করে বিএনপি নেতৃবৃন্দ দলীয় নেতা-কর্মী ও দেশপ্রেমিক প্রবাসীদেরকে চোখ-কান খোলা রেখে শান্তিপূর্ণভাবে তারেক রহমানের কার্যক্রমকে সম্পন্নের জন্যে সহযোগিতার আহবান জানিয়েছেন। যে কোন ধরনের উস্কানীমূলক কর্মকান্ডে বিএনপির নেতা-কর্মীরা যেন মাথা ঠান্ডা রেখে পদক্ষেপ নেন-সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিভিন্ন স্টেট থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী জড়ো হচ্ছেন নিউইয়র্কে তাদের প্রাণপ্রিয় নেতা তারেক রহমানের সফরকে সাফল্যমন্ডিত করতে।

    জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের পর নিউইয়র্কে কন্সাল জেনারেলের আয়োজনে তারেক রহমানকে নাগরিক সম্বর্ধনা প্রদানের যে প্রস্তুতি চলছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীগণের সাথেও জাতিসংঘ সফরের আলোকে কোন সংবাদ সম্মেলনে মিলিত হবেন না। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিবারই জাতিসংঘ সফরের আলোকে।

    এদিকে বাংলাদেশের ক’টনীতিকরা দাবি করেছেন, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কয়েকটি দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রথমত, বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। ক’টনীতিকরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাই, এটি বাংলাদেশীদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।

    মিশনের কর্মকর্তারা জানান, অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন। এসব বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

    বাংলাদেশ মিশন সূত্র জানায়, নিউইয়র্কে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করবেন। সকালে তিনি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্যে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে স্বাগত প্রাতঃরাশে যোগ দেবেন। এরপর তিনি এবারের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করবেন। সন্ধ্যায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

    প্রধানমন্ত্রী ২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। এরপর তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে এবং স্পেন কর্তৃক আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন। বিকেলে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন।

    তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর এবারের অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এ সভায় তিনি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন।

    এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন। তিনি ২৩ সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন।

    তিনি ২৪ সেপ্টেম্বরে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এসময় তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন এবং স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করবেন।

    সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে । এছাড়া, অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে তিনি ওয়াল স্ট্রিট ও মেটাসহ আরো কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

  • কানাডায় ভিসা জালিয়াতি ও জাল পাসপোর্টের মামলায় আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

     

    নজরুল মিন্টু

    কানাডায় অভিবাসন জালিয়াতির বড় একটি ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএ মন্ট্রিয়লের ৪২ বছর বয়সী আবুল কাসেমের  বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছে। সংস্থাটির অভিযোগ, দুই বছরের কিছু বেশি সময়ে তিনি ৬৫ জনকে অস্থায়ী আবাসিক ভিসা ও আশ্রয়ের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তা করেন। তাঁদের মধ্যে ৫৩ জন প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া অস্থায়ী আবাসিক ভিসা ব্যবহার করে কানাডায় প্রবেশ করেন। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে জাল কানাডীয় পাসপোর্ট ব্যবহারের অভিযোগও উঠে এসেছে।

    ঘটনাটি এখন আর শুধু তদন্তের মধ্যে নেই। আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে পাঁচটি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। মন্ট্রিয়ল আদালতে গত ২৮ জুলাই মামলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু যাঁকে ঘিরে এত অভিযোগ, তিনি এখন কানাডায় নেই। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, কাসেম ২০২৫ সালের জুনে নায়েগ্রা ফলস-বাফেলো সীমান্ত দিয়ে কানাডা ছেড়ে যান এবং বর্তমানে দেশের বাইরেই অবস্থান করছেন। আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাঁর হাতে সমন পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

    ঘটনার শুরু অবশ্য বেশ আগে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা বা আইআরসিসি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালে আবুল কাসেমকে ঘিরে তদন্ত শুরু করে সিবিএসএ। এর প্রায় এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৮ মে তাঁর মন্ট্রিয়লের বাসায় তল্লাশি পরোয়ানা (search warrant) নিয়ে অভিযান চালান তদন্তকারীরা। সেই তল্লাশিতে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণই পরে মামলার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে ওঠে।

    তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত আবুল কাসেম অন্তত ৬৫ জনকে অস্থায়ী আবাসিক ভিসা বা টিআরভি (Temporary Resident Visa বা TRV) এবং আশ্রয়ের আবেদনে (asylum claims) মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তা করেন। একই সময়ে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া টিআরভি ব্যবহার করে ৫৩ জনকে কানাডায় প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    টিআরভি নিজে কাউকে কানাডার স্থায়ী বাসিন্দা বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্টের মর্যাদা দেয় না। এটি সাময়িকভাবে কানাডায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় একটি ভিসা। তবে তদন্তে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্যটি উঠে এসেছে এসব ভিসার আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া আমন্ত্রণপত্র ঘিরে।

    কানাডায় ভিজিটর ভিসার আবেদনে অনেক সময় কানাডায় থাকা আত্মীয়, বন্ধু কিংবা পরিচিত কারও আমন্ত্রণপত্র জমা দেওয়া হয়। আইআরসিসি বলছে, এমন আমন্ত্রণপত্র ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়, তবে ভিসা কর্মকর্তা আবেদন যাচাইয়ের সময় সেটি বিবেচনা করতে পারেন। আমন্ত্রণপত্রে যিনি অতিথিকে ডাকছেন তাঁর পরিচয়, ঠিকানা, আবেদনকারীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং সফরের উদ্দেশ্যসহ বিভিন্ন তথ্য থাকে।

    সিবিএসএর অভিযোগ, আবুল কাসেম এই ব্যবস্থাকেই কাজে লাগিয়েছিলেন। টিআরভি আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া আমন্ত্রণপত্রে কানাডায় অবস্থানকারী ‘হোস্ট’ হিসেবে পরিচয় দেখাতে তিনি চারটি জাল কানাডীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। অর্থাৎ যে ব্যক্তি আবেদনকারীকে কানাডায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে কাগজে দেখানো হচ্ছিল, সেই পরিচয়ের পক্ষে জাল পাসপোর্ট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    কানাডায় অর্থের বিনিময়ে অভিবাসন বিষয়ে পরামর্শ বা প্রতিনিধিত্ব করার জন্য অনুমোদন থাকা বাধ্যতামূলক। আইআরসিসির নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের সেবা দিতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ইমিগ্রেশন কনসালটেন্টদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, কোনো প্রাদেশিক বা টেরিটোরিয়াল ল সোসাইটি অথবা কুইবেকের নোটারি সংস্থার অনুমোদিত সদস্য হতে হয়। আবুল কাসেম অনুমোদিত অভিবাসন পরামর্শক বা আরসিআইসি (RCIC) ছিলেন কি না, তদন্তকারীরা তা উল্লেখ করেননি। তবে তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজেকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের অভিবাসন পরামর্শক হিসেবে পরিচয় দিতেন, যার কানাডা, ফ্রান্স ও বাংলাদেশে কার্যালয় রয়েছে।

    আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগ, কানাডায় অবৈধভাবে মানুষ প্রবেশে ষড়যন্ত্র করা। দ্বিতীয় অভিযোগ, অবৈধভাবে মানুষকে কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা।

    আইআরপিএর ১১৭ ধারায় জেনেশুনে বা পরিণতি সম্পর্কে বেপরোয়া থেকে কাউকে কানাডার অভিবাসন আইন ভেঙে দেশে প্রবেশের ব্যবস্থা করা, উৎসাহ দেওয়া বা সহায়তা করা অপরাধ। একই ঘটনায় ১০ জন বা তার বেশি মানুষের বিষয় জড়িত থাকলে আইনে সর্বোচ্চ ১০ লাখ কানাডীয় ডলার জরিমানা অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, কিংবা দুটোই দেওয়ার বিধান রয়েছে।

    তৃতীয় অভিযোগটি হলো ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে পরামর্শ বা সহায়তা করা। আইআরপিএর ১২৬ ধারা অনুযায়ী, অভিবাসন আবেদনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা তথ্য গোপন করতে কাউকে জেনেশুনে সহায়তা করাও অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মামলার ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

    চতুর্থ অভিযোগ, জাল কানাডীয় পাসপোর্ট ব্যবহার। এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

    পঞ্চম অভিযোগটি এসেছে কানাডার ক্রিমিনাল কোড থেকে। জাল জেনেও পাসপোর্ট ব্যবহারের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

    এই মামলার আরেকটি দিক ভবিষ্যৎ অভিবাসীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বারবার মনে করিয়ে দেয়, কোনো প্রতিনিধি আবেদনপত্র তৈরি করলেও সেখানে দেওয়া তথ্যের দায় শেষ পর্যন্ত আবেদনকারীরই। অর্থাৎ কোনো পরামর্শক যদি বলেন, “এই তথ্যটি লিখে দিন, কোনো সমস্যা হবে না” কিংবা “কাগজটি আমরা তৈরি করে দেব”, তাতেও আবেদনকারীর দায় শেষ হয়ে যায় না।

    আবুল কাসেমের মামলাটি সামনে আসার সময় কানাডায় অভিবাসন জালিয়াতি নিয়ে তদন্তও বেড়েছে। সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত শুধু ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি প্রোটেকশন অ্যাক্টের অধীনে সন্দেহভাজন অপরাধ নিয়ে ১৬১টি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি।

    কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারী এ মামলা সম্পর্কে বলেছেন, কানাডা ন্যায়সংগত ও বিশ্বাসযোগ্য অভিবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষকে স্বাগত জানায়। তবে যারা নিয়ম পাশ কাটাতে বা ব্যবস্থার অপব্যবহার করতে চায়, তাদের গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

     

  • শাড়ির নাম কে রাখে ! জেনে নিন শাড়ির ১০০নাম

     

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    আচ্ছা একটা কথা জানতে চাই; এই যে মেয়েদের শাড়ির নাম হয় বিভিন্ন; এই নাম কে রাখে কেউ জানেন?
    মানে বলতে চাইছি; সেই লোকটিকে আমার দরকার। আমি জানতে চাই এইসব নাম আসে কোথা থেকে; এবং কেন আসে; এই নামগুলো না এলেই বা এই মহাবিশ্বের কি ক্ষতি বৃদ্ধি হতো?

    বিষয়টা খুলেই বলি। আমার বউ এমনিতে ঠিকই আছে; খাচ্ছে দাচ্ছে লাফাচ্ছে ; ছেলের পেছনে চ্যাঁচাচ্ছে; আমার ওপরে খবরদারি করছে….সে করুক। কিন্তু; যত পুজো এগিয়ে আসে; আমার বউয়ের মধ্যে একটা অদ্ভুত পরিবর্তন আসে। একটা ক্রূর জিঘাংসাবৃত্তি জেগে ওঠে; কিরকম যেন একটা আমজাদীয় মনোভাব ফুটে ওঠে। বেশ কয়েক বছর আগে; এক সন্ধ্যায় হঠাৎ এক গব্বর সিং টাইপ্স হিহিহাহাহাহাহা দিয়ে বলল সে নাকি সম্বলপুরী সিল্ক কিনবে এইবার।

    আমি ঢোক গিললাম; জল খেলাম; নাকের ডগা কুরকুর করে চুলকে বললাম ……. সম্বলপুরী? আমি সহায় সম্বলহীন মানুষ; আবার ওসব কেন? তার চেয়ে আসন্ন শীত উপলক্ষে চলো দুটি মোটা কম্বল কিনি; কাজে দেবে। এরপরে টানা তিনদিন যে মানসিক ও পৈটিক অত্যাচার আমি সহ্য করেছি; তা বিশদে শুনলে আপনারা চোখের জলে ঘর ভাসিয়ে ন্যাতা দিয়ে ঘর মুছে ফেলবেন। স্রেফ সাদা আলুর তরকারি আর রুটি খেয়ে ক্ষুন্নিবৃত্তি সেরেছি….

    আর একবার; ঠিক সেইরকমই একটা হাসির সাথে বজ্রনির্ঘোষ এসেছিল…….বোমকাই!!

    বোমকাইয়ের নাম শুনে আমি একপ্রকারের চমকাই। মাথা চুলকে বলেছিলাম……পুলিশ ধরে যদি? ওসব বোম টোম কিনো না ; ছাপার শাড়ি কেনো বরং…….আধখানা ডিমও দেয়নি পরের তিনদিন……

    আর একবার……বিচিত্রপুরী। আমি দোষের মধ্যে বলেছিলাম……এই বাড়িটাই তো একটা বিচিত্রপুরী……বাকিটা আর শুনে কি করবেন? প্রাণ কেঁদে উঠবে; কারবালার প্রান্তরে হাসান হোসেনের ওপরেও এই পাশবিক অত্যাচার হয়নি।

    তবে কেলো অফ অল কেলোস হয়েছিলো যেবার কলমকারি শাড়ির কথা বলেছিলো। আমি মা শীতলার দিব্যি বুঝিনি। খুব গম্ভীরভাবে বলেছি……দেখো মামণি; আজ পর্যন্ত তুমি বহু কেলেঙ্কারি করেছো; আর ওই কেলেঙ্কারি শাড়ি কিনতে হবে না। তারপরে কি হয়েছিলো? থাক…..

    পুজো আবার আসছে। ওই শাড়ির নাম রাখে যে লোকটা; তাকে আমার দরকার। কেউ জানলে জানাবেন দয়া করে……

    শাড়ি লিস্ট  এখানে দিলাম: ইক্কত, কাঞ্জিভরম, বালুচরি, ঢাকাই জামদানি, মুর্শিদাবাদ সিল্ক, বিষ্ণুপুর সিল্ক, বেনারসি, পৈঠানি, মাহেশ্বরী, আর্নি সিল্ক, জর্জেট, গাদোয়াল, মাইশোর সিল্ক, বোমকাই, গামছা শাড়ি, মশারি শাড়ি, অসম সিল্ক, স্বর্ণ কাতান, বেগমপুরি, ধনেখালী, শিফন্ জর্জেট, কাতান বেনারসি, পচমপল্লী, করদানি ঢাকাই, গাছি তসর, সম্বলপুরি সিল্ক, মোডাল সিল্ক, গরদ, কোড়িয়াল সিল্ক, মধুবনী, কাঁথা স্টিচ, অরগেঞ্জা, ঢাকাই মসলিন, স্বর্ণচুড়ী, গুজরাটি কাঁথা, কাশ্মীরি কাঁথা, পশমিনা সিল্ক, আর্ট সিল্ক, নারায়ন পেট, তাঞ্চই, চান্দেরি,  লক্ষ্ণৌ চিকন, কলাখেত্র, পিওর সিল্ক, বাংলার তাঁতের শাড়ি, সাউথ ইন্ডিয়া, টাঙ্গাইল, বালিকা বধূ, কাঁচ কাটা হিরে, আজরাখ, ওপারা শাড়ি, পাটোলা, বান্ধনি, দোলা সিল্ক, লেহেরিয়া, নেট শাড়ি, কোটা ডোরিয়া, কাশ্মীরি সিল্ক, উপ্পাদা, মঙ্গলগিরি, কুর্গি, ভেঙ্কটগিরি, ইলকাল, বাপটা শাড়ি, হ্যান্ডলুম শাড়ি, কটকি, এপ্লিক শাড়ি, কোটা সিল্ক, জারদৌসি, বাহা শাড়ি, সাউথ সিল্ক, তাঁত সিল্ক
    ৭৩)গিছা শাড়ি, কলমকারি, বাটার সিল্ক, খাদি কটন, শান্তিপুরি, ব্যাঙ্গালোর সিল্ক, সুতির ছাপা শাড়ি, কোসা সিল্ক, বাটিক, কোটা দরিয়া, সঙ্গনারী, রাজকোট, বেগমপুরি, মটকা, মনিপুরী সিল্ক, ভাগলপুরি সিল্ক, কোরা সিল্ক, মুগা সিল্ক, পেপার সিল্ক, ফুলকারি, কাসাভা, কাঠিতাওয়ার, ধুপিয়ান সিল্ক, রেশম কোটা, হাকোবা শাড়ি, রাজস্থানী কটন, ববি শাড়ি এবং বাংলাদেশী ঢাকাই।

  • ফ্যাশনের ঝলকানিতে মুখরিত আটলান্টিক সিটি

    সুব্রত চৌধুরী

    নিউজার্সির পর্যটন নগরী আটলান্টিক সিটির শোবোট হোটেলে বসেছিল আটলান্টিক সিটি ফ্যাশন উইক ২০২৬-এর ৩দিনব্যাপী জমজমাট আসর। ১৯ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া এই আয়োজনে ফ্যাশনের ঝলকানিতে মুখরিত ছিল আটলান্টিক সিটি। এক পর্যায়ে ডিজাইনার, মডেল, ফ্যাশন উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন-প্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল আটলান্টিক সিটি। আলোকসজ্জা, র‌্যাম্প আর নজরকাড়া সব ডিজাইনের প্রদশর্নীতে শোবোট হোটেলে যেন তৈরি হয়েছিল ভিন্ন এক ফ্যাশন জগত।

    র‌্যাম্পে একের পর এক নতুন ডিজাইনের পোশাক নিয়ে হাজির হয়েছিলেন  মডেলরা। দেশ-বিদেশের ডিজাইনারদের সৃজনশীলতা, পোশাকের বৈচিত্র এবং আধুনিক ফ্যাশন ট্রেন্ড উঠে এসেছিল এবারের আয়োজনে।

    ফ্যাশন শোর পাশাপাশি পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল সৃজনশীলতা, বিনোদন ও নেটওয়ার্কিংয়ের নানা সুযোগ।

    ফ্যাশন শো-তে মডেলরা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    এবারের আটলান্টিক সিটি ফ্যাশন উইক আরও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । কারণ, আয়োজনটি উদযাপন করেছে তার ১৫তম বার্ষিকী। ২০১১ সালে শুরু হওয়া এই উৎসব বছরে তিনবার অনুষ্ঠিত হয়। সময়ের ব্যবধান এবং প্রয়োজনের তাগিদে এটি আটলান্টিক সিটির ফ্যাশন ও সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারে একটি পরিচিত আয়োজন হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

    ফ্যাশন ষ্ট্যাইল ম্যাগাজিন ও কিংবি মিডিয়ার অংশিদারিত্বে অনুষ্ঠিত আটলান্টিক সিটি ফ্যাশন উইকে  অংশ নিয়েছে হাজারো ফ্যাশনপ্রেমী।

  •  Must remain beside the people & build resistance together with the people.

     

     

    Special Correspondent

    A meeting of the Central Executive Committee of the Bangladesh Awami League was held virtually on friday 18 September. The meeting was chaired by Presidium Member Sheikh Fazlul Karim Selim. Bangladesh Awami League President, Bangabandhu’s daughter and People’s Leader Sheikh Hasina delivered the keynote guidance-oriented address as the chief guest.

    A party organizing secretary confirmed that leaders joined the meeting virtually.

    Several members of the Awami League central committee and secretariat joined remotely from India and other countries. A number of figures, who are not currently members of the central committee but could take on senior leadership roles in the future, also attended the meeting in Delhi.

    Sheikh Hasina said that she had held consultations, in phases, with leaders and activists of the Awami League’s 83 district branches and 160 electoral constituencies in order to learn about the actual situation of the country and its people through grassroots leaders and activists, and to monitor the organizational condition of the party.

    Referring to her experience from these consultations, she said that every sector of the country was on the verge of destruction and that the situation was continuously deteriorating. Therefore, the country must be protected from this situation.

    Instructing the leaders responsible for organisational affairs, she said that wherever there is an organisational vacuum, priority should be given to those who have suffered various forms of persecution when selecting leadership. She said that the strength of the Awami League lies with the people and grassroots leaders and activists, and that the party places its trust in them; the Awami League does not rely on any other force.

    She said that information should be collected on those who have faced persecution and repression over the past nearly two years, regardless of political affiliation, and publicised to raise awareness among the people. At the same time, the identities and actions of those responsible for persecution and repression must also be exposed.

    Sheikh Hasina further said that many innocent military and civilian officials had been arrested in false cases, and she demanded their release.

    Sheikh Hasina said that in July-August 2024, members of the law enforcement agencies made every possible effort to ensure the safety of lives and property. As a result, many police officers were killed, their bodies were burned, and police stations were looted and set on fire. She expressed her determination to ensure justice in all the killings through judicial investigations.

    Based on information received from across the country, she said that the country was now plunged into darkness, with indiscriminate killings, rape, looting, extortion, the filing of cases and other forms of wrongdoing taking place. She alleged that the government was turning a blind eye to these activities and allowing its leaders and activists to commit wrongdoing.

    She said that although the government could not provide food for the people, it was able to produce bodies.

    To save the country from this situation, she reiterated her intention to return to the country. In this regard, she expressed her surprise, saying, “I am eager to return to the country, yet the government is creating obstacles.”

    Addressing party leaders and activists, the Awami League president said that no matter how much they were persecuted or how many death sentences were handed down against them, they must remain beside the people. They must build resistance together with the people.

    The meeting was moderated by Awami League Liberation War Affairs Secretary Advocate Mrinal Kanti Das. General Secretary Obaidul Quader, Presidium Members Mofazzel Hossain Chowdhury Maya Bir Bikram and valiant freedom fighter Advocate Jahangir Kabir Nanak, Joint General Secretary Agriculturist A.F.M. Bahauddin Nasim, Organising Secretaries S.M. Kamal Hossain and Sujit Roy Nandi, Member Professor Mohammad Ali Arafat, Deputy Secretary Raymond Areng and others spoke at the meeting, reviewing the overall situation in the country.

    Other leaders of the Central Executive Committee also participated in the meeting.

    In their statements, Awami League leaders demanded the cancellation of what they described as the illegal death sentences handed down by the so-called ICT Tribunal against Bangabandhu’s daughter Sheikh Hasina and other Awami League leaders, as well as the abolition of the illegal tribunal.

    The meeting expressed deep concern and outrage over the prevailing socio-economic and political situation in the country, the transition to a democratic state system, the deterioration of the supply and security situation concerning oil, gas, water and electricity, the deterioration of law and order, and the economic deadlock.

    The meeting also noted that, most recently, the so-called International Crimes Tribunal had handed down death sentences on what the party described as baseless and fabricated charges against Bangladesh Awami League President Sheikh Hasina and prominent party leaders including Obaidul Quader, Agriculturist A.F.M. Bahauddin Nasim, valiant freedom fighter Asaduzzaman Khan Kamal, Professor Mohammad Ali Arafat, Bangladesh Awami Jubo League Chairman Professor Sheikh Fazle Shams Parash, General Secretary Mainul Hossain Khan Nikhil, Bangladesh Chhatra League President Saddam Hossain and General Secretary Sheikh Wali Asif Enan, among others.

    The meeting expressed its firm view that the so-called tribunal had no legal basis and strongly rejected such actions.

    Following discussion, the meeting unanimously adopted the following demands and proposals:

    • The prices of essential commodities must be reduced.
    • The supply of electricity, oil, gas and fertiliser must be ensured.
    • Arrangements must be made to provide employment for workers who have lost their jobs.
    • Closed industries and factories must be reopened.
    • All political prisoners must be released.
    • All false cases must be withdrawn.
    • The ban on the Bangladesh Awami League must be withdrawn.
    • The so-called ICT Tribunal’s illegal death sentences against Bangabandhu’s daughter Sheikh Hasina and other Awami League leaders, as well as the illegal tribunal itself, must be abolished.
    • False cases filed against innocent military and civilian officials of the Republic must be withdrawn, and the release of those who have been arrested must be ensured.
  • সিএনএনসহ ৩ সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউজে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

    নিউজ ডেস্ক

    প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘বৈরী’ ও ‘ভুয়া খবর’ পরিবেশনের অভিযোগ তুলে তিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম— সিএনএন, এমএসনাউ ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউজে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

    শুক্রবার নিজের সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক ঘোষণায় ট্রাম্প অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা বলেছেন।

    সেইসঙ্গে ভবিষ্যতে আরো কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের ওপর একই ধরনের কড়াকড়ি আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

    প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর জন্য নতুন এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

    সোশাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “অনবরত ‘ভুয়া খবর’ পরিবেশন করার কারণে আমি অবিলম্বে সিএনএন, এমএসনাউ ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউজে নিষিদ্ধ করছি।”

    তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, ট্রাম্প প্রশাসন কিংবা আমেরিকাকে নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের সময় সংবাদমাধ্যমগুলোর মনগড়া তথ্য ও মিথ্যা প্রচার চালানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়। অন্যান্য ‘ফেক নিউজ’ মিডিয়ার বিরুদ্ধেও একই পদক্ষেপ আসছে।”

    তবে এই নিষেধাজ্ঞা ঠিক কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে পোস্টে বিস্তারিত বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    ওভাল অফিসে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ট্রাম্পের এই ঘোষণা আসে।

    অনুষ্ঠান শেষে ট্রাম্পের সংবাদ সংগ্রহের কাজে যুক্ত ‘প্রেস পুল’কে সঙ্গে নিয়ে ভার্জিনিয়ায় তার গলফ ক্লাবে নিজের ‘সুপার প্যাক’ আয়োজিত বৈঠক ও নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে তাদের ক্যাম্প ডেভিডে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সাংবাদিকদের জন্য সীমিত প্রবেশাধিকারের স্থানগুলোর একটি।

    ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই তার প্রতি সমালোচনামূলক সংবাদ পরিবেশন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করা কিংবা ব্যক্তিগতভাবে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের আক্রমণ করে কথা বলার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে তার।

    এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘মেক্সিকো উপসাগরের’ নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত ট্রাম্পের নীতি অনুসরণ না করায় বার্তা সংস্থা এপির ওপর ক্ষুব্ধ হন তিনি। সে সময় ওভাল অফিস, এয়ার ফোর্স ওয়ান এবং সীমিত পরিসরের বিভিন্ন ইভেন্টে এপির সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

    পরে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে এপি, যা এখনও বিচারধীন।

  • জাতিসংঘের অধিবেশনকালে বিএনপি-আওয়ামী লীগসহ ৫৫ সংগঠনের পরস্পর-বিরোধী কর্মসূচি

    সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র জোহরান মামদানি। পাশে পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ। ছবি-বাংলা গেজেট।

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে আগত বিশ্বনেতাগণের অনেকেই নানাভাবে বিতর্কিত, স্বৈরাচার, মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত বলে তাদের বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে এবং এজন্যে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ ৫৫টি সংগঠন নিউইয়র্ক পুলিশ/পার্ক ডিপার্টমেন্ট/এয়ারপোর্ট প্রশাসনের অনুমতি সংগ্রহ করেছে।

    বিক্ষোভের অনুমতির জন্যে সাবমিট করা দরখাস্তের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-সহ বহু দেশের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সমাবেশ ও মিছিল করা হবে। এমন ঘটনা সারাবছরই এই সিটিতে ঘটে আসছে। তবে তার মাত্রা বেড়ে যায় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনকালে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে প্রথম সংশোধনী (বাক-ব্যক্তি-মিডিয়ার স্বাধীনতা, ক্ষোভ প্রকাশের অধিকার) অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠানে পুলিশ সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে থাকে। তবে কেউ যদি সহিংস হয় কিংবা ধ্বংসাত্মক আচরণে লিপ্ত হয়-তাহলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

    ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্প্রতিবার নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত  কোন সমাবেশে অংশ নেব না। এবং আমি তাদেরকে কখনোই প্রতিবাদি হতে উৎসাহিত করিনি। আমি সবসময় তাদের বলেছি যে, এই সিটিতে তারা প্রতিবাদ-সমাবেশ-মিছিল করার অধিকার রাখেন। আমরা সেই অধিকারকে সম্মান করি, এবং এই সিটি এমন একটি জায়গা যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের জন্যে গর্বিত, প্রথম সংশোধনীর জন্যে অহংবোধ করে এবং সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। মেয়র মামদানি অবশ্য উল্লেখ করেছেন যে, প্রতিবাদ সমাবেশকালে কোন ধরনের হামলার হুমকি চালানোর বিশ্বাসযোগ্য কোন তথ্য তার অফিসে নেই।

    পুুলিশ কমিশনার এসময় জানান, ২২ সেপ্টেম্বর শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুরু হবে এবং তার আগে থেকেই জাতিসংঘ সদর দফতরের সম্মুখের পার্কে, বিভিন্ন দেশের মিশনের সামনে বিক্ষোভ-সমাবেশ শুরু হবে। কোন কোন দিন ৩/৪টি স্থানে বিক্ষোভ হবে।

    এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমণের সময় জেএফকে এয়ারপোর্টে পরস্পর-বিরোধী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। ২১ সেপ্টেম্বর অপরাহ্নে তারেক রহমান কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণের কথা। সেখানে আওয়ামী লীগসহ সমমনা দলগুলো ব্যাপক বিক্ষোভের অনুমতি নিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। একইসময়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে সমাবেশ করার অনুমতি নিয়েছে বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠন। উভয়ের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা দেখা গেলেও এয়ারপোর্ট পুলিশসহ নিউইয়র্ক পুলিশের উপস্থিতি থাকবে। গতবছরও জাতিসংঘের অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহম্মদ ইউনূসের আগমনের সময় পরস্পর-বিরোধী কর্মসূচি পালিত হয়। নিরাপত্তা বেষ্টনী সত্বেও ইউনূসের সফরসঙ্গিগণের মধ্যে কেউ কেউ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ক্ষোভের মুখে পড়ে নাজেহাল হয়েছেন। ডিম-হামলার শিকার হয়েছিলেন এনসিপির দুয়েকজন নেতা। সে আলোকে এবার বিশেষ ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

    তারেক রহমান যে হোটেলে অবস্থান করবেন তার বাইরেও প্রতিদিনই বিক্ষোভের কর্মসূচি অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। এই অবস্থা মোকাবেলা করতে বিএনপিও স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করেছে। তাদের নেতাসহ সফরসঙ্গিগণের নিরাপত্তায় থাকবেন স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্যরা-এ তথ্য জানান নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিমউদ্দিন। ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বৈঠকেও সবকিছু ঠান্ডা মাথায় মোকাবেলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট্রা জানান।

    ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সে সময় বাইরে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো ‘শান্তি-সমাবেশ’ করার অনুমতি নিয়েছে। এই কর্মসূচির সমন্বয় ঘটাচ্ছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ স¤্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু, গিয়াস আহমেদ, মিজানুর রহমান মিল্টন এবং গোলাম ফারুক শাহীন।

    একইসময়ে তারেক রহমানকে ‘গণতন্ত্রের দুশমন, ফ্যাসিবাদের নায়ক, একাত্তরের ঘাতকদের দোসর’ হিসেবে অভিহিত করে তাকে ক্ষমতাচ্যুৎ করতে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ব্যাপক বিক্ষোভ দেখানোর অনুমতি নিয়েছে। এ উপলক্ষে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, মিশিগান, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, ইলিনয়, ওয়াশিংটন মেট্র এলাকা, পেনসিলভেনিয়া, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, বস্টন থেকেও নেতা-কর্মীরা নিউইয়র্কে আসবেন বলে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী ১৮ সেপ্টেম্বর এ সংবাদদাতাকে জানান।

    যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ডা. মাসুদুল হাসান জানান, সর্বকালের বৃহৎ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে জেএফকে এয়ারপোর্টে এবং জাতিসংঘের সামনে। সবটাই হবে শান্তিপূর্ণভাবে। বিশ্ববাসীকে আমরা জানান দিতে চাই যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে। গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশীরাই শুধু অনিরাপদ নন, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশকেই সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হবে যদি তারেকের মত লোকজন ক্ষমতায় থাকেন।

    প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, ২৫ সেপ্টেম্বর  অপরাহ্নে নিউইয়র্কে তারেক রহমানের নাগরিক সম্বর্ধনার কর্মসূচি বাতিল করা হলেও আমেরিকার বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হচ্ছেন নিউইয়র্কে। তারা আওয়ামী লীগের যে কোন ধরনের প্রতিরোধ-কর্মসূচি রুখে দেয়ার কথা জানিয়েছেন। এরফলে নিউইয়র্কে প্রবাসীদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা  বিরাজ করছে। আরো উল্লেখ্য, চব্বিশের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হবার আগে প্রতি বছরই জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদানের জন্যে নিউইয়র্কে আসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিএনপি ও জামাত-শিবিরের লোকজন তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এবার ঘটবে তার উল্টো অর্থাৎ বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদল-জামাত-শিবির করবে শান্তি ও স্বাগত সমাবেশ। আর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ করবে বিক্ষোভ সমাবেশ।

    জানা গেছে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে শীর্ষ নেতাগনের বিতর্ক শুরুর আগে অর্থাৎ ২০ সেপ্টেম্বর থেকে জাতিসংঘের সম্মুখস্ত ফার্স্ট এভিনিউ’র ৪১ স্ট্রিট থেকে ৪৮ স্ট্রিট পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এমনকি সর্বসাধারণকেও আইডি ছাড়া ঐ এলাকায় যেতে দেয়া হবে না।

  • আওয়ামী লীগ আর বিএনপির কান্ডারি

    বিশেষ সংবাদদাতা

    বাংলাদেশের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বি পার্টির শীর্ষ পদে দুই নারীর নাম আবারো সামনে এসেছে। এরা  হলেন বঙ্গবন্ধুর নাতনি সায়মা ওয়াজেদ পুতুল (৫৩) এবং ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান (৩০)। পুতুল এবং জাইমা উভয়েই বিশেষ দুটি পরিবারের উত্তরাধিকারী হিসেবে আবির্ভূত হলেও নিজের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতায় আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি পরিবারের শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত হতে সক্ষম হয়েছেন। তার সাথে যোগ হয়েছে নানা-মা এবং দাদা-দাদির নেতৃত্ব গুণ।

    সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

    বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর চব্বিশের ৫ আগস্ট থেকে নয়া দিল্লীতে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতি সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে তার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কে হবেন (প্রেসিডিয়ামের সিনিয়র সদস্য হিসেবে শেখ সেলিমের নাম এসেছে) তা প্রকাশের পর আওয়ামী পরিবারে নানা মুখী-আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের এবং ভারত-সহ বিভিন্ন দেশে থাকা কেন্দ্রীয় নেতারাও শেখ সেলিমকে পছন্দ করছেন না। সর্বশেষ ক্ষমতায় থাকাবস্থায় শেখ সেলিম নিজেকে কখনো শেখ হাসিনার চেয়েও ক্ষমতাবান দেখানোর চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শেখ হাসিনার আত্মীয় পরিচয়ে তিনি আরো এমনকিছু করেছেন-যাকে ত্যাগী নেতা-কর্মীরা ভালোভাবে নিতে পারেননি। আওয়ামী লীগের চরম এই দু:সময়ে তেমন একজনকে আওয়ামী লীগের হাল ধরার দায়িত্ব প্রদানের অর্থ হবে সবচেয়ে পুরনো এই রাজনৈতিক দলটিকে আরো নাজুক অবস্থায় নিপতিত করা-এমন মতামত-মন্তব্য সোস্যাল মিডিয়ায় অবিরতভাবে প্রকাশের মধ্যেই শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে প্রেসিডিয়াম মেম্বার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির সংবাদে অনেকে স্বস্তিবোধ করছেন। প্রখ্যাত অটিজম বিশেষজ্ঞ পুতুল বিগত বছরসমূহে অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজের ধারাবাহিকতায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক পদে যোগদানের মধ্যদিয়ে নিজের অবস্থানকে মানবিকতায় বিশেষ এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। মা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় পুতুল এমন কোন মতামত/মন্তব্য করেননি-যা তার নানার গড়া রাজনৈতিক দলের প্রধান প্রতিপক্ষের কাউকে কষ্ট দিতে পারে। শুধু তাই নয়, ন্যায়-নিষ্ঠভাবে নিজেকে পরিচালিত করতেও কার্পণ্য করেননি পুতুল। আর এভাবেই বঙ্গবন্ধুর অপর নাতি অর্থাৎ শেখ হাসিনার একমাত্র পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের চেয়ে অনেক বেশী গুণের অধিকারী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনে সক্ষম হয়েছেন সর্বসাধারণের কাছে। সবকিছু মিলিয়ে পুতুলকেই বর্তমানের দু:সময়ে আওয়ামী লীগের কান্ডারি হিসেবে নির্ভরযোগ্য মনে করছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

    ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

    ঠিক এমনি অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একমাত্র সন্তান ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও বিএনপি রাজনীতির কেন্দ্র বিন্দুতে উঠেছেন। রাজনৈতিক কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া বাবা তারেক রহমানের সাথে লন্ডনে বসতি গড়েন জাইমা রহমান ২০০৮ সালে। এরপর সেখানে উচ্চতর শিক্ষা লাভের পর ব্যারিস্টার হয়েছেন। এমনি অবস্থায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান তালুকদার জাইমা সম্পর্কে কট্যুক্তি করার পর জাইমা লাইম লাইটে এসেছেন। এরপর চব্বিশের জুলাইয়ে কথিত আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা ও তার সরকারের পতন ঘটলে মুহম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে বাবা তারেক রহমান এবং মা জুবাইদা রহমানের সাথে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফিরেছেন ব্যারিস্টার জাইমা। আওয়ামী লীগকে সুযোগ না দিয়ে বিএনপি-জামাত-এনসিপির অংশগ্রহণে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একতরফা নির্বাচনের প্রচারাভিযানে জাইমা রহমান নিজের অবস্থানকে বিএনপির রাজনীতিতে অবিসম্বাদিত করেছেন। এছাড়া, ওয়াশিংটন ডিসিতে ব্রেকফাস্ট প্রেয়ার মিটিংয়ে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ এবং উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতাতেও ছিলেন ব্যারিস্টার জাইমা। নারীর ক্ষমতায়নে অন্যতম প্রবক্তা হিসেবেও আবির্ভূত হয়েছেন তিনি। আর এভাবেই ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে বিএনপির ভবিষ্যত কান্ডারি হিসেবে ভাবতে শুরু করেছেন বিএনপির তৃণমূলের কর্মীরা। নানার পরিবারের খ্যাতির পাশাপাশি নিজের যোগ্যতা ও পৈত্রিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ জাইমা হবেন বিএনপির ভবিষ্যত নেতা-এমনটি ভাবতেও দ্বিধা করছেন না অনেকে। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম এই জাতিসংঘ সফরের প্রাক্বালে গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে এসেছেন ব্যারিস্টার জাইমা। অবস্থান করছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খানের বাসায়। সম্পর্কে খালা হোন জাইমার। অত্যন্ত কৌশলে বাবার মিটিংয়ের প্রক্রিয়াগুলো তৈরী করছেন বলে জানা গেছে।